| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘→ ক্ষমতাসীন সরকারের…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

→ ক্ষমতাসীন সরকারের অদক্ষতা→রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
→অকার্যকর জাতীয় সংসদ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
শাসন বলতে রাষ্ট্রের কার্যাবলি পরিচালনা এবং জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইনের প্রাধান্য বজায় থাকাকে বোঝায়। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। কেউ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী নয়। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা করা হবে এটাই আইনের শাসনের সার্থকতা। আইনের শাসন মূলত ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'সুশাসনের অভাব' বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে।
সুশাসনের অভাব বলতে এমন এক পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণের ঘাটতি থাকে। যখন কোনো রাষ্ট্রে সুশাসন থাকে না, তখন সেখানে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেয়। সুশাসনের অভাব মূলত একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
উদ্দীপকের ছকটি লক্ষ করলে দেখা যায়, '?' চিহ্নিত বিষয়টি থেকে ক্ষমতাসীন সরকারের অদক্ষতা তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অকার্যকর জাতীয় সংসদের দিকে ধাবিত করছে। সুশাসনের অভাব থাকলে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি জেঁকে বসে, ফলে সরকারের অদক্ষতা প্রকাশ পায়। এই অদক্ষতা থেকে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত আইনসভা বা জাতীয় সংসদ তার কার্যকারিতা হারায় এবং গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'সুশাসনের অভাব' দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে আমি মনে করি।
সুশাসন হলো একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের চাবিকাঠি। এটি নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ গঠন সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারের অদক্ষতা দূর হয় এবং রাষ্ট্রীয় কার্যে গতিশীলতা ফিরে আসে।
উদ্দীপকের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে প্রথমেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অদক্ষতা দূর করতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি এবং পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হলে সেখানে গঠনমূলক আলোচনা ও বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করলে অকার্যকর সংসদের সমস্যা দূর হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর হতে হবে। তথ্য অধিকার, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা আসবে। যখন সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, তখনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জাতীয় সংসদ একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তাই সরকার কর্তৃক সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হলো উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর একমাত্র যৌক্তিক সমাধান।