| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ক্লাসে শিক্ষক জনাব…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

ক্লাসে শিক্ষক জনাব সালাম বললেন, “১৮৮৫ সাল থেকে ভারতে একটি রাজনৈতিক দল ছিল। তারপরও মুসলমানদের দাবিদাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ফলে নবাব সলিমুল্লাহসহ মুসলিম নেতারা বিংশ শতকের প্রারম্ভে একটি দল গঠন করেন।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় ১৯১১ সালে।
উদ্দীপকের প্রথমাংশে ১৮৮৫ সালে গঠিত 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' নামক রাজনৈতিক দলটির কথা বলা হয়েছে।
১৮৮৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউমের প্রচেষ্টায় বোম্বেতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম রাজনৈতিক দল যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার আদায় করা এবং ব্রিটিশ সরকারের সাথে ভারতীয়দের সেতুবন্ধন তৈরি করা। কংগ্রেস গঠনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ- ১. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশপ্রেমিকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব স্থাপন করা। ২. জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। ৩. শিক্ষিত সমাজের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাবলি সমাধান করা। ৪. পরবর্তী বছরের রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা। উদ্দীপকে জনাব সালামের বক্তব্যে এই দলটির কথাই ফুটে উঠেছে যা ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গঠিত হয়েছিল। মূলত ভারতীয়দের অভাব-অভিযোগ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই দলটির প্রাথমিক লক্ষ্য।
উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত দলটি হলো 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ', যার ভূমিকা ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ গঠিত হয়। কংগ্রেসের হিন্দুঘেঁষা নীতি এবং মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে এই দলটির জন্ম হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।
ভারতের রাজনীতিতে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল বহুমুখী। ১৯০৯ সালের মলে-মিন্টো সংস্কারে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি আদায় ছিল দলটির প্রাথমিক সাফল্য। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের উত্থাপিত 'লাহোর প্রস্তাব' দলটির রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই মুসলমানদের জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জোরালো হয়। উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, মুসলমানদের দাবি-দাওয়া পূরণের লক্ষ্যেই এই দলটির জন্ম এবং এটি ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মুসলিম লীগের নেতৃত্বেই ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যদিও শুরুতে এটি ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্যের নীতি গ্রহণ করেছিল, কিন্তু কালক্রমে এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনে এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। উদ্দীপকের শেষাংশে এই দলটির ঐতিহাসিক গুরুত্বই প্রতিফলিত হয়েছে।