| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কলিমদ্দি দফাদার ষাটোর্ধ্ব।…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কলিমদ্দি দফাদার ষাটোর্ধ্ব। তিনি সরকারি চাকরি করেন; পাক-সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর ডিউটি। তাই মানুষ তাঁকে রাজাকার ভাবে। মুক্তিসংগ্রামে যেতে না পারায় তাঁর মনে দুঃখ। কিন্তু সুযোগ পেয়ে একবার একদল পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলেছিলেন। এটাও তাঁর মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ। কলিমদ্দি স্বস্তি পান দেশের পক্ষে কাজ করতে পেরে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি গল্পগ্রন্থ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীত রুশ বাহিনীর পক্ষে যেমন অনুকূল হয়েছিল তেমনই আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুমও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুকূল ছিল- এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার বাহিনী প্রচণ্ড শীতের কারণে রুশ বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে প্রবল বর্ষায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তেমনই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ছেলেরা বর্ষার সঙ্গে পরিচিত থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে তা ছিল সম্পূর্ণ অজানা বিপদস্বরূপ। কুলির ছদ্মবেশে কলেজে আলমারি দিতে এসে এক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন "বর্ষাকালেই তো জুৎ।" নুরুল হুদার কোনো এক কলিগও একদিন না দুদিন ফিসফিস করে বলেছিলেন, "বাংলার বর্ষা তো শালারা জানে না। রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মনসুন।" এ কথার মধ্য দিয়ে আসলে বোঝানো হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্ষা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপকারী ভূমিকা রেখেছিল।
কলিমদ্দি দফাদারের সঙ্গে 'রেইনকোট' গল্পের বৈসাদৃশ্য হল উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারের মধ্যে সাহসিকতাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পেলেও 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা একজন ভীতু প্রকৃতির লোক।
'রেইনকোট' গল্পটিতে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের দৃশ্যপট অঙ্কন করা হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদা। তিনি খুব ভীতু প্রকৃতির লোক। পাকিস্তানি মিলিটারিদের ভয়ে তিনি সারাক্ষণ তটস্থ থাকেন।
উদ্দীপকে কলিমদ্দি দফাদার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারায় মনে মনে কষ্ট পান। কিন্তু তিনি একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। একদিন সুযোগ পেয়ে তিনি পাকিস্তানিদের ভুল পথ দেখিয়ে দিয়ে তাদের বিপদগ্রস্ত করেন যা তার সাহসিকতার পরিচয়। 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা ভিতু প্রকৃতির। তিনি সব সময় মিলিটারির ভয়ে তটস্থ থাকতেন। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারার কষ্ট তার মাঝে প্রতিফলিত হয়নি। এই দিক থেকে কলিমদ্দি দফাদারের সঙ্গে 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
দেশাত্মবোধ চেতনার দিক থেকে "ঘটনার বৈপরীত্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম উজ্জীবিত ছিল"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'রেইনকোট' গল্পটি একটি প্রতীকী গল্প। প্রতীকী তাৎপর্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচ্য গল্পের নামকরণ করা হয়েছে 'রেইনকোট'। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সাহস ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। নুরুল হকের দেশপ্রেম গল্পের অন্যতম একটি দিক।
উদ্দীপকে কলিমদ্দি দফাদার একজন সরকারি চাকরিজীবী। তার দায়িত্ব হলো পাক হানাদারদের পথ-ঘাট দেখিয়ে দেওয়া। তিনি একজন দেশপ্রেমিক বাঙালি, তাঁর মাঝে দেশের প্রতি 'গভীর ভালোবাসা। তাই তিনি পাক বাহিনীর কাজে সহায়তাকারী হয়েও দেশের স্বার্থে তিনি পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলে ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর প্রবল দেশপ্রেম প্রকাশ পায়। 'রেইনকোট' গল্পে ভিতু নুরুল হুদাও মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট পরিধানে সাহসী হয়ে ওঠেন। পাকসেনা অত্যাচার করলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত ঠিকানা প্রকাশ করেননি।
উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার ও 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা উভয়েই নিজেদের বিপদের পরোয়া না করে দেশের স্বার্থের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন, যার মূলে রয়েছে তাঁদের প্রবল দেশপ্রেম। তাই বলা যায়, ঘটনার বৈপরীত্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম উজ্জীবিত ছিল।