| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কদম আলি একসময়…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কদম আলি একসময় ‘মাল্টিপারপাস জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। চটকদার বিজ্ঞাপন আর লোভাতুর প্রচারণায় অল্প সময়ে সে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অধিক মুনাফা লাভেল আশায় এলাকার অশিক্ষিত-অল্পশিক্ষিত খেটে খাওয়া মানুষ তার প্রতিষ্ঠানে অর্থলগ্নি করতে থাকে বছরের পর বছর যায়; কিন্তু জমাকারীরা লাভের মুখ দেখে না। নিকট অতীতে কদম আলির আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকলেও এখন সে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। এলাকার এক শিক্ষিত তরুণ সাগর এক যুগ পর গ্রামে এসে দেখে কদম আলি সহজ- সরল মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করে যাচ্ছে। সে দেরি না করে এলাকার উদীয়মান তরুণদের সুসংগঠিত করে কদম আলির প্রচারণা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনে। প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে’ কদম আলিকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মতিগঞ্জের সড়কটা দিয়ে দলে দলে লোক উত্তর দিকে চলছে।
পিতার বয়সি মজিদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় নিজের ভাগ্য বিড়ম্বনার কথা ভেবেই জমিলা কেঁদে ফেলে।
রহিমা ও জমিলা পাটি বুনছিল। গল্প করতে করতে একপর্যায়ে জমিলা রহিমাকে বলে, সে বিয়ের দিন মজিদকে দেখে তার শ্বশুর ও রহিমাকে শাশুড়ি ভেবেছিল। নিয়তিকে মেনে নিয়ে সংসার করলেও আসলে সুখী ছিল না জমিলা। তাই হাসতে হাসতে গল্প করলেও শেষ পর্যন্ত রহিমার অলক্ষ্যে কেঁদে ফেলে জমিলা।
একজন প্রগতিশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে উদ্দীপকের সাগরের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস সচেতন একজন মানুষ। তাই শিক্ষার আলো দিয়ে গ্রামের মানুষকে মজিদের প্রতি অন্ধবিশাস থেকে বাঁচাতে চায় সে। আক্কাস মজিদের মাজারকেন্দ্রিক পশ্চাৎপদ জীবনধারা থেকে সরিয়ে আনতে চায় মহব্বতনগর গ্রামের মানুষদের। কিন্তু মজিদ কূটকৌশলে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়। এমনকি তাকে গ্রাম ছাড়তে হয়।
উদ্দীপকের সাগর আক্কাসের মতোই সচেতন ও সাহসী চরিত্র। শিক্ষিত তরুণ বলেই সে কদম আলীর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারে। আর তাই গ্রামের মানুষকে সে বাঁচাতে চায় উপন্যাসের আক্কাসের মতোই। এজন্য এলাকার তরুণদের সুসংগঠিত করে কদম আলিকে হঠাতে চেষ্টা করে সে। যেমন করে আক্কাস মক্তব শিক্ষার পাশাপাশি মহব্বতনগর গ্রামের মানুষদের মাঝে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে চেয়েছিল। কিন্তু মজিদের চক্রান্তের কারণে উদ্দীপকের সাগরের মতো সফল হতে পারেনি আক্কাস। কিন্তু চরিত্র, চেতনা ও উদ্যোগে আক্কাস ও সাগর সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র।
প্রতারণা ও স্বার্থান্বেষী মনোভাবের সূত্রে উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ এক শঠ, প্রতারক ও ধর্মান্ধ চরিত্র। মহব্বতনগর গ্রামে আগন্তুক হিসেবে প্রবেশ করে কৌশলে সে প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রতিষ্ঠার পেছনে তার পুঁজি ছিল গ্রামীণ মানুষের ধর্মবোধ ও অন্ধবিশ্বাস। মানুষকে ঠকিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থোদ্ধার করে সে। আলোচ্য উদ্দীপকের কদম আলিও তেমনি একজন
স্বার্থান্বেষী চরিত্র।
উদ্দীপকের কদম আলি একজন স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী চরিত্র। নিজের আখের গোছাতে সে এলাকার অশিক্ষিত মানুষদের ব্যবহার করে। অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে তাদের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে সে। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদও তেমনি এক ধর্মান্ধ ও স্বার্থপর চরিত্র। কদম আলির কাছে যেমন এলাকাবাসী প্রতারিত হয়, একইভাবে মজিদের কাছে প্রতারিত হয় উপন্যাসের মহব্বতনগরের মানুষও।
উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, উদ্দীপকের কদম আলি ও উপন্যাসের মজিদ উভয়েই স্বার্থপর ও কূটচরিত্রের অধিকারী। কর্মকান্ডের উপায় ভিন্ন হলেও তাদের উদ্দেশ্য একই ছিল। মানুষকে প্রতারণা করে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল তারা। গ্রামের মানুষকে ঠকিয়ে কদম আলি ও মজিদ উভয়েই নিজেদেরকে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের কদম আলি ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।