| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কলয়েড প্রকৃতির একটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কলয়েড প্রকৃতির একটি উপাদান যা জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসাবে কাজ করে। অন্য একটি জৈব পদার্থ যা উদ্ভিদদেহের কোষপ্রাচীরের মূল গাঠনিক উপাদান হিসাবে ভূমিকা রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
এনজাইমের প্রোসথেটিক গ্রুপটি জৈব অণু দ্বারা গঠিত হলে তাকে কো-এনজাইম বলে। যেমন- ADP, ATP, NAD, FAD ইত্যাদি।
কলেরা একটি পানিবাহিত রোগ। Vibrio cholerae নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে মানুষের কলেরা রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়ার দেহ থেকে নিঃসৃত এন্টারোটক্সিন জাতীয় কলেরাজেন (Choleragen) নামক বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় অন্ত্রের প্রাচীরে ব্যথাসহ ক্ষত সৃষ্টি হয়। এ কারণে বমি ও চাল ধোয়া পানির মতো বার বার পায়খানা হতে থাকে। এজন্য রোগীর দেহ থেকে প্রচুর পানি ও লবণ নিঃসরণ ঘটে এবং সোডিয়াম আয়ন পরিশোষণে বাধা দেয়। এর ফলে রোগীর শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট সমতা হারায়। দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে দেহে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় উপাদানটি হচ্ছে সেলুলোজ। সেলুলোজ যৌগটি উদ্ভিদ দেহের কোষপ্রাচীরের মূল গাঠনিক উপাদান। এটি শুধুমাত্র উদ্ভিদ দেহেই পাওয়া যায়। নিচে সেলুলোজের গঠন বর্ণনা করা হলো-
অসংখ্য গ্লুকোজ অণু পরস্পর ১৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ তৈরি করে। এ সেলুলোজ উদ্ভিদের দেহের সমস্ত ভার বহনে দায়িত্ব পালন করে। সেলুলোজ ঘন বা বা দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত হয়। সেলুলোজের সাথে লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি জৈব রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এর আণবিক ওজন ২,০০০.০০ - ২০,০০০.০০ ডাল্টন। এটি মিষ্টি বিবর্জিত এবং বিজারণ ক্ষমতাহীন। আয়োডিন দ্রবণ প্রয়োগে কোনো রং প্রদর্শন করে না। এটি ফাইরার সদৃশ্য ও শক্ত তাই বস্ত্র ও বন শিল্পের প্রধান উপাদান সেলুলোজ। নিচে সেলুলোজের গঠন দেখানো হলো-
উদ্দীপকের প্রথম উপাদানটি হলো প্রোটিন। প্রোটিন জীবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এটা কোষপর্দাসহ কোষীয় বিভিন্ন অঙ্গাণুর গাঠনিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। কোষে প্রোটিন সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে শক্তি উৎপাদন করে। প্রোটিন কোষের প্রোটোপ্লাজম, আবরণী ও অঙ্গাণুসমূহের প্রধান গাঠনিক উপাদান। প্রাণিদেহের পেশি, ত্বক, চুল, শিং, নখ, আঁইশ ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ প্রোটিন দ্বারা গঠিত। দেহে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়ে দেহের বৃদ্ধি ঘটায়। প্রোটিন হরমোন তৈরি করে। হরমোন দেহের জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রোটিন এনজাইম তৈরি করে। এনজাইম দেহের সকল রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। প্রোটিনঘটিত অ্যান্টিবডি ও ইন্টারফেরন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। মানবদেহ পেপটাইড থেকে উৎপাদিত প্রোটিন ডিফেনসিভ অ্যান্টিবডি হিসেবে কাজ করে। হিস্টোন প্রোটিন নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিক অ্যাসিডকে কার্যকর করে। রক্তের হিমোগ্লাবিন প্রোটিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে। সাপের বিষ ও অনেক উদ্ভিদে বিদ্যমান বিশেষ ধরনের প্রোটিন দেহের প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। কোষ অভ্যন্তরে বিভিন্ন অণুর পরিবহন, আয়ন স্থানান্তর প্রভৃতি প্রোটিনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। রক্তের প্লাজমাপ্রোটিন রক্তের হোমিওস্টেসিস ও কলয়ডাল অভিস্রবণিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কোষে বিদ্যমান প্রোটিন কোষীয় তারল্যতা রক্ষা করে কোষীয় শুষ্কতা থেকে কোষকে রক্ষা করে।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায় যে, জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম।