| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কোষ বিভাজনের কোনো…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কোষ বিভাজনের কোনো এক দশায় প্রতিটি ক্রোমোসোম আকর্ষণ তন্ত্রর সাথে যুক্ত হয়ে ক্রোমোসোমীয় নৃত্য প্রদর্শন করে। আবার আর এক ধরনের কোষ বিভাজনের সময় প্রতি জোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বিভিন্ন স্থানে ইংরেজি ‘X’ অক্ষরের ন্যায় যুক্ত থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
থমাস হান্ট মর্গান ভূট্টা উদ্ভিদে প্রথম ক্রসিং ওভার সম্পর্কে ধারণা দেন।
মায়োসিস প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভক্তির মধ্যবর্তী সময়কে ইন্টারকাইনেসিস বলে। একে সাইটোকাইনেসি ১ ও বলা হয় । এ পর্যায়ে DNA এর অনুলিপন বন্ধ হয়ে যায়। RNA এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের কাজ শুরু হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজনের প্রোমেটাফেজ দশায় ক্রোমোসোমীয় নৃত্য দেখা যায়।
প্রোফেজ পর্যায়ের পরবর্তী এবং মেটাফেজ পর্যায়ের অগ্রবর্তী পর্যায়কে প্রো-মেটাফেজ বলে। এটি স্বল্পস্থায়ী পর্যায় প্রোফেজের একেবারে শেষদিকে উদ্ভিদকোষে কতগুলো তন্তুময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দু'মেরুযুক্ত স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। এই পর্যায়ের প্রথম দিকেই স্পিন্ডল যন্ত্রের তন্তুগুলোর আঘাতে নিউক্লিয়ার এনভেলপ বিলুপ্ত হতে থাকে। এই পর্যায়ে ক্রোমসোমীয় নৃত্য দেখা যায়। নিচে চিত্র দেয়া হলো :
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় ধরনের কোষ বিভাজন হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন।
যে কোষ বিভাজনে ক্রোমোসোম একবার এবং নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজন হয় তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে। মায়োসিস কোষ বিভাজনের পাকাইটিন উপপর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বিভিন্ন স্থানে ইংরেজি 'X' অক্ষরের ন্যায় যুক্ত থাকে। এখানে ক্রসিং ওভার ঘটে। মায়োসিস কোষে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে। বংশগতিতে বিশেষত প্রকরণ সৃষ্টিতে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মায়োসিস হলো জীবসমূহের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টির একটি প্রধান উপায়।
মায়োসিসের ফলে জননকোষ (গ্যামিট) উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব। প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা কেবলমাত্র এ প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন করেই ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো। ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে এ বিভাজনের মাধ্যমে। পৃথিবীর প্রায় সাতশ কোটি মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একজন অন্যজন থেকে ভিন্নতর। একই প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যও জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত। যৌন প্রজননক্ষম দুটি জীব কখনও হুবহু একরকম হয় না। মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় জননকোষ সৃষ্টিকালে ক্রসিংওভারের কারণে মাতাপিতার ক্রোমোসোমের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে, ফলে জীবের মধ্যে আসে বৈচিত্র্য। কারণ ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোসোমের খণ্ডাংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোসোমে নতুন জিন সংযোজন হয়। আর জিনের সংযোজন ও অবস্থানের কারণে প্রত্যেক অপত্য জীবের বংশপরম্পরায় - ভিন্নতা আসে। ফলে নতুন প্রজন্মে বৈচিত্র্যতা আসে। অর্থাৎ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জীবদেহে সৃষ্ট বৈচিত্র্যতার মূল কারণ হচ্ছে ক্রসিংওভার যা মিয়োসিস কোষ বিভাজনে সংঘটিত হয়।
অতএব বলা যায় যে, জীবদেহের বৈচিত্র্য আনয়নে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ভূমিকা অপরিসীম।