| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কোষ বংশগতিবিদ ড.…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কোষ বংশগতিবিদ ড. নাসরিন পিঁয়াজের মূল ও পরাগধানীর স্লাইড পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন, মূলের স্লাইডে প্রাপ্ত কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা পরাগধানীর কোষের ক্রোমোসোমের সংখ্যার দ্বিগুণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মিয়োসিসের ডিপ্লোটিন উপপর্যায়ে কায়জামাটাগুলো সৃষ্টি হয় এবং ক্রমান্বয়ে প্রান্তের দিকে সরে যায়। কায়জামার এরূপ প্রান্তের দিকে সরে যাওয়াকে প্রান্তীয়করণ বলা হয়।
এটি একটি কোষের জেনেটিক উপাদানকে দুটি কন্যা কোষে বিভক্ত করে যার ক্রোমোজমের সংখ্যা একই সংখ্যক তার মূল প্যারেন্ট সেলের মতো। মাইটোসিসের উদ্দেশ্য হল আরো ডিপ্লয়েড কোষ তৈরি করা। এটি প্রতিটি ক্রোমোজমের অনুলিপি করে এবং কপিগুলো বিভিন্ন দিকে আলাদা করে কাজ করে। এইভাবে যখন কোষটি মাঝখানে বিভক্ত হয়,প্রতিটি নতুন কোষ প্রতিটি ক্রোমোজমে নিজস্ব অনুলিপি পায়।
মাইটোসিস বিভাজন উদ্দীপকের ১ম স্লাইডটি।
মাইটোসিস এর বৈশিষ্ট্যঃ
১) এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্রোমোজম লম্বালম্বি তথা অনুদৈর্ঘ্যে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়।
২) প্রতিটি ক্রোমাটিড তথা অপত্য ক্রোমোজম তার নিকটস্থ মেরুতে পৌঁছে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি করে। কাজেই দুটি অপত্য কোষেই ক্রোমোসোম সংখ্যা সমান থাকে।
৩) অপত্য কোষগুলো মাতৃকোষেএ সমগুণসম্পন্ন হয়, কারণ জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক জিনসমূহ বহনকারী ক্রোমোজমগুলোর প্রতিটি লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের নিউক্লিয়াসে যায়।
৪) অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান থাকে।
৫) অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে মাতৃকোষের সমান আয়তনের হয়।
উদ্দীপকের ২য় স্লাইডে পর্যবেক্ষিত বিভাজনটি মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া।
মিয়োসিসের গুরুত্ব (বা তাৎপর্য বা প্রয়োজনীয়তা) জীবজগতে মিয়োসিসের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, অধিকাংশ জীবের যৌন জনন প্রক্রিয়া এ পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর ফলে ভ্রূণ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন জীব জন্মলাভ করে। তবে নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদে স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। মায়োসিসের গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হলঃ
১) জননকোষ সৃষ্টিঃ মায়োসিসের ফলে জননকোষ উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটে তবে বংশবৃদ্ধি
অসম্ভব।
২) ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখাঃ প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব (constant) রাখা কেবলমাত্র এ প্রক্রিয়ার জন্য সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস না ঘটে তাহলে পিতা মাতা হতে সন্তান সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলোগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগত ধ্বংস হয়ে যেত।
৩) প্রজাতির স্বকীয়তা ঠিক রাখাঃ ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে।
৪) বৈচিত্র্যের সৃষ্টিঃ যৌন প্রজনন সম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু একই রকম হয় না। পৃথিবীর প্রায় সাত'শ কোটি মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একজন অন্যজন থেকে ভিন্নতর। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় গ্যামিটে ক্রোমোসোমের স্বাধীন বিন্যাস এবং ক্রসিংওভারের ফলে পৃথিবীতে এ বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৫) অভিব্যক্তিঃ মায়োসিস আনে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।
৬) গ্যামিট সৃষ্টি ও বংশবৃদ্ধিঃ ডিপ্লয়েড জীবে মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় গ্যামিট। আর গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমেই যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৭) জনুক্রমঃ সে সকল জীবের জীবনচক্রে জনুক্রম আছে সেখানে মায়োসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
৮) মেন্ডেলের সূত্রঃ মেন্ডেলের সূত্রের ব্যাখ্যা দেয়া মায়োসিস ছাড়া সম্ভব নয়।