| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কোষ অঙ্গাণু ‘J’…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কোষ অঙ্গাণু ‘J’ উদ্ভিদ কোষে বর্তমান এবং আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। কোষ অঙ্গাণু ‘K’ সকল কোষে বর্তমান এবং এক প্রকার জৈব এসিডের ছাঁচ অনুযায়ী অ্যামিনো এসিড দ্বারা বৃহদাকার জৈব অণু তৈরি করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষঝিল্লি দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমীয় অংশ হলো সাইটোপ্লাজম।
লিপিড উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। উদ্ভিদদেহে বিশেষ করে ফলে ও বীজে অধিক পরিমাণ লিপিড সঞ্চিত থাকে। লিপিড সাধারণত তেল ও স্নেহরূপে বিদ্যমান থাকে।নিউট্রাল লিপিড আনবিক গঠনের লিপিডের একটা অংশ।নিউট্রাল লিপিড দুই প্রকার।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'J' কোষ অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন নিচে দেওয়া হলো-
১. আবরণী : সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
২. স্ট্রোমা : আবরণী দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী, কলয়েডধর্মী ম্যাট্রিক্স তরলকে স্ট্রোমা বলে।
৩. থাইলাকয়েড ও গ্রানাম : স্ট্রোমাতে অসংখ্য থলি আকৃতির অংশগুলোকে থাইলাকয়েড বলে।
থাইলাকয়েড এক সঙ্গে একটির ওপর আর একটি সজ্জিত হয়ে স্তূপের মতো থাকে। থাইলাকয়েডের এ স্তূপকে গ্রানাম বলে।
৪. স্ট্রোমা ল্যামেলি : দুটি পাশাপাশি গ্রানার কিছুসংখ্যক থাইলাকয়েডস সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা সংযুক্ত থাকে, একে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে।
৫. ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-Synthases : থাইলাকয়েড মেমব্রেন বহু গোলাকার বস্তু বহন করে। এদের ATP-Synthases বলে। মেমব্রেনগুলোতে বহু ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে।
৬. DNA ও রাইবোসোম : ক্লোরোপ্লাস্টে তার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA ও রাইবোসোম থাকে।
উদ্দীপকের জৈব অণুটি হলো প্রোটিন।এটি কোষ অঙ্গাণু K অর্থাৎ রাইবোসোমে সংশ্লেষিত হয়।
প্রোটিন অসংখ্য অ্যামিনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত বৃহদাকার জৈব অণু।প্রোটিনকে জীবনের ভাষা বলা হয়।এটি মানবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।যেমন ১) মানবদেহের গঠন এবং বিকাশে প্রোটিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোষের গঠন, বিকাশ এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । আমাদের শরীরের যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ বা ক্ষত নিরাময়ের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন ।
২)মানবদেহের শক্তির উৎস হিসেবে প্রোটিন কাজ করে।প্রতি গ্রাম প্রোটিন থেকে ৪.১ কিলোক্যালরি শক্তি পাই। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমানে খাদ্যগ্রহন করলে শরীরে শক্তির অভাব ঘটে, তখন মাংসপেশিতে সঞ্চিত অ্যামিনো অ্যাসিড প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয় ।
৩)প্রোটিন উৎসেচক হিসেবে কাজ করে।উৎসেচক মূলত প্রোটিন দ্বারা গঠিত, যার আনবিক গঠন সাহায্য করে। আমাদের শরীরের বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া যেমন পরিপাক, নতুন কোষ গঠন, রক্ত জমাট বাঁধা এসবের জন্য উৎসেচকের প্রয়োজন হয় ।যেমন পরিপাক উৎসেচক ল্যাকটেজ এবং সুক্রেজ, যা শর্করা পরিপাক করতে সাহায্য করে ।
৪)কিছু প্রোটিন হরমোনে রূপান্তরিত হয়, যা বিভিন্ন কোষ, কলা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দৈহিক কার্যকলাপে সাহায্য করে ।যেমন- ইনসুলিন।
৫) জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, যেমন-কোলাজেন।
৬)অ্যান্টিবডির গাঠনিক উপাদান হিসেবে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে,যেমন-ইমিউনোগ্লোবিউলিন।
৭) ইন্টারফেরন একটি কোষীয় প্রোটিন। এটি ভাইরাস আক্রমণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেহে তৈরি হয়। ইন্টারফেরন ক্যান্সার ও ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
৮) মানবদেহের পেপটাইড থেকে উৎপাদিত প্রোটিন ডিফেনসিড অ্যান্টিবডি হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং বলা যায়, প্রোটিন মানবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।