| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘“কপালে কব্জিতে লাল…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“কপালে কব্জিতে লাল সালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক
হাতের মুঠোয় মৃত্যু চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্মবিত্ত করুণ কেরানি, নারী, বৃদ্ধ, ভবঘুরে
আর তোমাদের মতো শিশু পাতা কুড়ানিরা দল বেঁধে।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি ‘নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
হানাদার বাহিনীর অশুভ পদচারণে বিপর্যস্ত দেশকে বোঝাতেই কবি সমগ্র দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায়। চারিদিকে তাদের পরিচালিত হত্যা, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠন জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করে। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি সারা দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রতিবাদ-প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিক থেকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সাথে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে '৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বাঙালির প্রতিবাদী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসী গর্জে ওঠে সেসময়। এদেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সংঘটিত হয় গণ-অভ্যুত্থান ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার কথা ফুটে উঠেছে। তাদের কেউ কেউ কারখানার শ্রমিক, কেউ কৃষক, কেউ মধ্যবিত্ত আবার কেউবা ভবঘুরে। এই বিচিত্র শ্রেণি ও পেশার মানুষ সমবেত হয়েছে মূলত একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে। আর তা হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ। একইভাবে, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।' সে সময় স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার সাধারণ মানুষ সংগ্রামী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ।
কেবল সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরায় উদ্দীপকের কবিতাংশটির বক্তব্য ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সামগ্রিকতাকে তুলে ধরতে পারেনি ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়, তার স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র-অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ১৯৬৯ -এ ব্যাপক গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা ও ছাত্রদের এগারো দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ছিল অপ্রতিরোধ্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি সম্মিলিত প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চিত্র উপস্থাপন করেছেন। এসব প্রতিবাদকারীর কেউ লোহার শ্রমিক, কেউ উলঙ্গ কৃষক, আবার কেউ মধ্যবিত্ত বা ভবঘুরে। তবে ভিন্ন পরিবেশ ও অবস্থান থেকে এলেও তাদের মনোভাব এক। আর তা হলো প্রতিবাদী মানসিকতা। কবিতাংশটিতে শ্রমিকদের মাথায় বাঁধা লালসালুই তাদের প্রতিবাদী চেতনার স্মারক। তবে এটিই আলোচ্য কবিতার একমাত্র বিষয় নয় ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' একটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ এবং সংগ্রামী চেতনার কবিতা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, কবিতাটি সে প্রেক্ষাপটেই রচিত। আলোচ্য কবিতায় ফুটে ওঠা প্রতিবাদী মানসিকতার দিকটি উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে উঠলেও পাকিস্তান সরকারের অপশাসনের চিত্র সেখানে উঠে আসেনি । এছাড়া কবিতাটিতে '৬৯-এর গণ- অভ্যুত্থানের প্রেরণা হিসেবে কবি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে চিহ্নিত করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে এ বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না । সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।