| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কৃষিবিদ কোরবান একটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কৃষিবিদ কোরবান একটি রোগাক্রান্ত আলুক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পেলেন গাছের পাতা কালচে বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। এছাড়া ক্ষেতের পাশে পচা আবর্জনার উপরে ছাতা আকৃতির কিছু সমাঙ্গদেহী অপুষ্পক উদ্ভিদও তার দৃষ্টিগোচরে এলো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
কোনো রোগের জীবাণু পোষক দেহে প্রবেশ করার পর থেকে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত সময়কালই হলো সুপ্তাবস্থা।
ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলা হয়। এ প্রক্রিয়াতে কতগুলো ইলেকট্রন বাহকের মাধ্যমে ইলেকট্রন NADH বা FADH₂ থেকে O2-এ স্থানান্তরিত হয়। মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত বিশেষ এ প্রক্রিয়াটি এরোবিক জীবের ATP প্রাপ্তির প্রধান উৎস।
কৃষিবিদের দেখা অপুষ্পক উদ্ভিদটি Agaricus বা মাশরুম। এটির গঠনে বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। একটি পূর্ণাঙ্গ Agaricus- এর দেহ দু'টি অংশে বিভক্ত। একটি দৈহিক অংশ তথা মাইসেলিয়াম • এবং অপরটি জনন অংশ তথা ফ্রুটবডি।
মাইসেলিয়াম অত্যন্ত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, সূত্রাকার, দানাদার সাইটোপ্লাজম, প্রতিকোষে একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং প্রচুর গহ্বর এর সমন্বয়ে গঠিত। মাইসেলিয়াম-এ সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তৈলবিন্দু থাকে। মাইসেলিয়ামে দড়ির মতো হাইফাল অংশ থাকে, এ অংশকে রাইজোমর্ফ বলা হয়। একটি মাশরুম একদিনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হাইফি তৈরি করে। পূর্ণাঙ্গ ফুটবডি দেখতে ছাতার মতো এবং এটি মাটির উপরে বাড়তে থাকে। পরিণত অবস্থায় ফুটবডির দু'টি অংশ থাকে। গোড়ার দিকে কাণ্ড বা বৃন্তের ন্যায় অংশকে স্টাইপ এবং উপরের দিকে ছাতার ন্যায় অংশকে পাইলিয়াস বলা হয়। স্টাইপের ঊর্ধ্বাংশে আংটির ন্যায় একটি পর্দা থাকে যাকে অ্যানুলাস বলে। এছাড়াও পাইলিয়াসের অঙ্কীয় তলে পর্দার মতো অসংখ্য গিল অরীয়ভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। গিল বা ল্যামিলীতে অসংখ্য ব্যাসিডিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামের শীর্ষে আঙ্গুলের ন্যায় চারটি অংশের মাথায় একটি করে ব্যাসিডিওস্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোরগুলো অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম তৈরি করে।
কৃষিবিদের পর্যবেক্ষিত আলুগাছের রোগটি হলো আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ। এটি আলুর একটি মারাত্মক রোগ। সময়মতো এ রোগ প্রতিহত করতে না পারলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ আলুক্ষেত আক্রান্ত হতে পারে। নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে এ রোগটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে-
i. আলু চাষের সময় রোগমুক্ত আলু বীজ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। রোগ প্রবণ এলাকা থেকে বীজ আলু সংগ্রহ করা ঠিক নয়।
ii. বীজ বপনের আগে ১% বোঁর্দোমিশ্রণ বা অন্য কোনো ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে ব্যবহার করা দরকার।
iii. গাছের দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চির বড় হলে বা বয়স এক মাস হলে ১৫ দিন পর পর ছত্রাকনাশক (ডাইথেন এম-৪৫) স্প্রে করা প্রয়োজন যাতে রোগ সংক্রমণ হতে না পারে।
iv. জমিতে অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সার প্রয়োগে রোগ বিস্তার দ্রুততর হয়। এ জন্য অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
V. বর্তমানে কিছু রোগ প্রতিরোধী জাত আবিষ্কৃত হয়েছে। সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এসব রোগ প্রতিরোধী জাত আবাদ করা আবশ্যক।