| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ক্রমেই ছোট হয়ে…’ সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে ঘরে বসেই মানুষ সব খবর জানতে পারছে। ঢাকায় বসেই আমেরিকার বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করছে। ছাত্ররা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অজানা তথ্য ও তত্ত্ব জানতে পারছে। তাই খুব সহজ হয়েছে জীবনযাত্রা। স্বাধীনতার স্বাদও খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারছে সবাই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে।
ই-গভর্নেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্যসমূহ জনসাধারণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তথ্যভিত্তিক সমাজ গঠন করে জনগণকে সকারি কর্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজ জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত ও অর্থবহ করে তোলে।
স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলতে সেই সকল ব্যবস্থা বা শর্তাবলিকে বোঝায় যা নাগরিকের স্বাধীনতাকে অন্যের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে। এর মধ্যে আইন, লিখিত সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জনগণের সজাগ দৃষ্টি অন্যতম। এই রক্ষাকবচগুলো না থাকলে শক্তিশালী পক্ষ দুর্বলের স্বাধীনতা হরণ করতে পারে, তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ ঘরে বসে তথ্য পাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন করছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। এই স্বাধীনতা তখনই স্থায়ী হয় যখন রাষ্ট্রে উপযুক্ত রক্ষাকবচ বিদ্যমান থাকে। যেমন- আইনের শাসন থাকলে. একজন ব্যবসায়ী অনলাইনে নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন এবং ছাত্ররা তথ্যের অবাধ প্রবাহ ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকের সহজ জীবনযাত্রা ও স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণের বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষারই ফল। সুতরাং, স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই প্রকৃত অর্থে নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখে।
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স একে অপরের পরিপূরক এবং এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
সুশাসন হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। অন্যদিকে, ই-গভর্নেন্স হলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান। ই-গভর্নেন্স মূলত সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি আধুনিক ও শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ই-মেইলের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি ই-গভর্নেন্সের উদাহরণ। এর ফলে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা কমে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। যখন একজন নাগরিক ঘরে বসে সেবা পান, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়, যা সরাসরি সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করে। উদ্দীপকের জীবনযাত্রা সহজ হওয়ার মূলে রয়েছে ই-গভর্নেন্সের সফল প্রয়োগ।
পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ, আর ই-গভর্নেন্স সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। ই-গভর্নেন্স যত শক্তিশালী হবে, সুশাসন তত সুসংহত হবে। তাই উক্তিটি যথার্থ যে, সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স পরস্পর গভীর বন্ধনে আবদ্ধ।