ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো ডিএনএ। মানবদেহে দুই ধরনের ক্রোমোজোম আছে। এগুলো হলো অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম। এদের মধ্যে শেষেরটি মানব লিঙ্গ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই হলো লোকাস।
কিছু জিনগত অসুখ আছে, যেগুলোতে মিউটেশন হয়। যেমন- সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোতে। এসব অসুখকে বলে সেক্স লিংকড অসুখ। এই অসুখগুলো সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। এই কারণেই জেনেটিক ডিসঅর্ডার বা বংশগতি ব্যাধি হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বংশগতি বস্তুর প্রথম উপাদানটি হলো ক্রোমোজোম যার প্রধান উপাদান হলো DNA। নিচে DNA অণুর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো দেখতে মডেলটি হলো DNA ডাবল হেলিক্স মডেল। নিচে মডেলটির গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-DNA দ্বিসূত্রক, দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডান দিকে প্যাঁচানো থেকে একটি ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিঁড়ির হাতল তৈরি হয় পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা (ডি-অক্সিরাইবোজ), নাইট্রোজেনঘটিত বেস ও অজৈব ফসফেট দ্বারা। DNA-এর নাইট্রোজেন বেসগুলো হলো অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন ও সাইটোসিন। একটি সূত্রের অ্যাডিনিন অন্য সূত্রের থায়ামিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা (A = T) যুক্ত থাকে। আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অন্য সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা
উদ্দীপকে মানবদেহে দুই ধরনের ক্রোমোজোমের কথা বলা হয়েছে। একটি অটোজোম এবং আরেকটি সেক্স ক্রোমোজোম। এদের মধ্যে মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে সেক্স ক্রোমোজোম (XX এবং XY) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে লিঙ্গ নির্ধারণে সেক্স ক্রোমোজোমের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্ত (G = C) থাকে। হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ ঘূর্ণন ৩৪৪ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। একটি পূর্ণ ঘূর্ণনের মধ্যে ১০টি নিউক্লিওটাইড থাকে। পার্শ্ববর্তী দুটি নিউক্লিওটাইডের দূরত্ব ৩.৪৪। DNA ডবল হেলিক্সের ব্যাস ২০৪।
জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX । কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X এবং অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY। X এবং Y উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের মতো তবে Y ক্রোমোজোম X ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি X ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে X এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের X বা Y ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দুটি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে একটি মেয়ে অর্থাৎ XX আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y অর্থাৎ XY নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ক্রোমোজোমই মানবশিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
