| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
সাপের কাপড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মাধ্যমেই সাপ ধরার মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার মীমাংসা হয়ে গেল। সাপ ধরার একটি মন্ত্র রয়েছে যেটিকে বিষহরির আজ্ঞা বলা হয়। সেই মন্ত্র বলে সাপকে পোষ মানানো যায়, সাপকে যা বলা যায় সাপ তাই করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এটিও ছিল নিছক অন্ধ-বিশ্বাস। গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিষহরির আজ্ঞা যে নেহায়েত একটি কুসংস্কার, সেটিই প্রমাণিত হয়।
উদ্দীপকের পারুল আক্তারের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো উদার এবং সেবাব্রতী মানসিকতা।
'বিলাসী' গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী । নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের পারুল আক্তার একজন মানবিক এবং সেবাপরায়ণ, কোমল স্বভাবের নারী। করোনাকালীন দুর্যোগে তার স্বামী চাকুরী হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। এই সময়ে পারুল আক্তার সংসারে হাল ধরার পাশাপাশি স্বামীর সেবায় নিয়োজিত হন। মূলত পারুলের আন্তরিকতা, সেবাযত্ন এবং ভালোবাসাই সংসার টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। তাই বলা যায়, তার মানবিকতা ও সেবাপরায়ণ মানসিকতা বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।
'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর সঙ্গে উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসার অনন্যসাধারণ কাহিনি উঠে এসেছে। পাশাপাশি গল্পটিতে তাদের অসমবর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের আগ্রাসী রূপটিও ফুটে উঠেছে। গল্পটিতে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ কাহিনির মধ্যদিয়ে তৎকালীন বর্ণবাদী সমাজের ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত হয়েছে ।
উদ্দীপকে করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়। আলোচ্য 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রটিও গভীর ভালোবাসার শক্তিতে বলীয়ান হয়েই’সমাজবাস্তবতার বিরুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছে।
এসকল বিষয়ে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, বিলাসী গল্পের বিলাসী ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল তার প্রেমের টানে, আর উদ্দীপকের পারুল আক্তার তার ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল প্রয়োজনের তাড়নায়। বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে জাত ধর্ম ত্যাগ করে বিলাসীর কাছে এসেছিল, কিন্তু উদ্দীপকে তেমন কিছু হয় নি।
তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।