কুলপি নদী এঁকেবেঁকে বয়ে যায় বাঁখারীপুর দিয়ে। নদীটির প্রসার তেমন নয় কিন্তু আপন গাম্ভীর্যে হেলেদুলে বয়ে যায়। আশেপাশের গ্রামের সঙ্গে তার মাতা-ভগ্নির সম্পর্ক। চারপাশের বৃক্ষগুলো মাথা উঁচু করে দিন-রাত তাকে পাহারা দেয়। তৃষ্ণা পেলে শুষে নেয় তার জল। নির্মলা রোজ বিকেলে নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটে। নির্মলার মা ‘নেই। নদীর জলে নির্মলা তার মায়ের ছবিই খোঁজে।
'বাঁখারি' অর্থ কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।
সুভাকে নিয়ে তার পিতার বিদেশযাত্রার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বাক্প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সেখানে সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। পিতা-মাতাকে সে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো এবং চূড়ান্ত হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
উদ্দীপকে 'সুভা' গল্পে ফুটে ওঠা বাক্প্রতিবন্ধী সুভার প্রকৃতির কাছে আশ্রয় নেওয়ার চিত্রকল্পটি ফুটে উঠেছে। 'সুভা' গল্পের সুভা এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে সমবয়সিরা তার সঙ্গে মিশতে চায় না। সমাজ এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তাকে অবহেলা করে। ফলে কারও কাছ থেকেই তেমন মনোযোগ পায় না সে। এমতাবস্থায় নির্বাক প্রকৃতির মাঝেই সুভা আশ্রয় খুঁজে নেয়।
উদ্দীপকে নির্মলা নামের এক মাতৃহীন মেয়ের কথা বলা হয়েছে। মায়ের স্নেহবঞ্চিত নির্মলা গাঁয়ের পাশের কুলপি নদীটিকে ভালোবাসে। তাই নিরন্তর বয়ে চলা এ নদীটির মাঝেই সে মৃত মায়ের মুখচ্ছবি খোঁজে। পক্ষান্তরে, 'সুভা' গল্পের সুভা পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমতাবস্থায় নির্বাক ও অবারিত প্রকৃতিকে আশ্রয় করেই সে নিজস্ব জগৎ গড়ে তোলে। সুভার এমন অবস্থান অনেকাংশে উদ্দীপকের নির্মলার মানসিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে। এ বিবেচনায়, উদ্দীপকের নির্মলার মাঝে 'সুভা' গল্পে ফুটে ওঠা বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার। প্রকৃতির কাছে আশ্রয় নেওয়ার চিত্রকল্পটিই ফুটে উঠেছে।
কেবল প্রকৃতিকে আশ্রয় করার দিক তুলে ধরায় “উক্ত চিত্রকল্পটি 'সুভা' গল্পের একমাত্র বিষয় নয়”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে গল্পকার সুভা নামের এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধীদের প্রতি পরিবার ও সমাজের বিরূপ মনোভাব তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি সুভার সচেতন চিত্ত ও তার মর্মবেদনার দিক তুলে ধরে তিনি প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের সংবেদনশীল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্দীপকে বাঁখারীপুর নামের এক গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কুলপি
নদীর কথা বলা হয়েছে। নদীটি খুব বড় না হলেও গ্রামের লোকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একার্থে বলতে গেলে নদীটি এ গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখেরও অংশীদার। সংগত কারণেই গাঁয়ের মাতৃহীন কিশোরী নির্মলা এঁকেবেঁকে বয়ে চলা এ নদীর মাঝেই হারিয়ে যাওয়া মায়ের মুখচ্ছবি খুঁজে বেড়ায়। এখানে কেবল 'সুভা' গল্পের সুভার প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। এ কারণে সমবয়সিরা তার সঙ্গে মিশতে চায় না। সমাজের সবাই তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। এমনকি তার মা-ও তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেন। ফলে অশেষ মনোযাতনা নিয়ে তাকে দিন কাটাতে হয়। এভাবে গল্পটিতে সুভার দুঃখ-যাতনার কথা তুলে ধরে লেখকন প্রতিবন্ধীদের প্রতি মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়নি। সেখানে কেবল কুলপি নদীর স্নেহচ্ছায়ায় নির্মলা নামের এক কিশোরীর মায়ের ছবি খোঁজা এবং এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে আশ্রয় করার চিত্রকল্পই তুলে ধরা হয়েছে, অন্যান্য বিষয় নয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
