| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘লাবিব দুটি হলুদ…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

লাবিব দুটি হলুদ ইঁদুরের মধ্যে ক্রস ঘটান এবং প্রথম জনুতে একচতুর্থাংশ অপত্য মারা যায়। অন্যদিকে সাদিয়া বিয়ে করতে গিয়ে শুধুমাত্র রঙের Rh ফ্যাক্টরজনিত কারণে তার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করলেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
১৯৪০ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইনার রেসাস বানরের লোহিত রক্তকণিকায় এক ধরনের অ্যান্টিজেন আবিষ্কার করেন। এই অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
ইশিহারা টেস্ট হলো বংশগতিবিদ্যার সাথে সম্পর্কিত এমন এক বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বর্ণান্ধতা বা রং শনাক্তকরণের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন রঙের অসংখ্য ছোটো ছোটো ডট বা বিন্দুর সমন্বয়ে তৈরি কতগুলো বিশেষ প্লেট ব্যবহার করা হয়, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা বা পথ ফুটিয়ে তোলা হয়। একজন স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি প্লেটের সেই সংখ্যা বা নকশাটি সহজেই পড়তে প্রারলেও লাল-সবুজ বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা তা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। মূলত রেটিনার কোন কোষের কার্যকারিতা যাচাই করে চোখের কালার ভিশন ডেফিসিয়েন্সি নির্ণয়ে এই পরীক্ষাটি বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকের ড. লাবিবের ইঁদুরের ক্রসটি মূলত লিথাল জিন বা মারণ জিনের প্রভাবকে নির্দেশ করে। নিচে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-উদ্দীপক অনুসারে, লাবিব দুটি হলুদ ইঁদুরের মধ্যে ক্রস ঘটানোর ফলে প্রথম বংশধরের (F1 জনু) এক-চতুর্থাংশ অপত্য মারা যায়। জেনেটিক্স অনুযায়ী, ইঁদুরের গায়ের হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী জিনটি একটি প্রকট লিথাল জিন। যখন দুটি বিষমসংকর হলুদ ইঁদুরের মধ্যে মিলন ঘটে, তখন তাদের জিনোটাইপ যদি Y (হলুদ) এবং y (বাদামী) হয়, তবে ক্রসটি হবে নিম্নরূপ-
পিতামাতার ফিনোটাইপ: হলুদ ইঁদুর × হলুদ ইঁদুর
পিতামাতার জিনোটাইপ: Yy × Yy
গ্যামেট: (Y, y) এবং (Y, y)
চেকার বোর্ড বা ক্রসের ফলাফল:
YY: এই ইঁদুরগুলো ভ্রূণ অবস্থাতেই মারা যায় (এক-চতুর্থাংশ বা ২৫%), কারণ প্রকট লিথাল জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় অত্যন্ত ক্ষতিকর।
Yy: এই ইঁদুরগুলো বেঁচে থাকে এবং এদের গায়ের রং হলুদ হয় (দুই-চতুর্থাংশ বা ৫০%)।
yy: এই ইঁদুরগুলো বেঁচে থাকে এবং এদের গায়ের রং অ্যাগাউটি (কালচে বাদামী) (এক-চতুর্থাংশ বা ২৫%)।
সাধারণ মেন্ডেলীয় অনুপাত ৩ : ১ হওয়ার কথা থাকলেও লিথাল জিনের প্রভাবে YY জিনোটাইপধারী ইঁদুর মারা যাওয়ায় জীবিত ইঁদুরের অনুপাত হয় ২: ১। লাবিবের পরীক্ষায় এক-চতুর্থাংশ মারা যাওয়ার ঘটনাটি মূলত এই সমজাতীয় প্রকট লিথাল জিনের উপস্থিতির কারণেই ঘটেছে।
উদ্দীপক অনুসারে, সাদিয়া শুধুমাত্র রক্তের Rh ফ্যাক্টরজনিত কারণে তার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেননি। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাদিয়ার এই সিদ্ধান্তটি সঠিক ও দূরদর্শী ছিল। নিচে এর কারণসমূহ আলোচনা করা হলো-
এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস: যদি একজন Rh নেগেটিভ (Rh+) নারী (সাদিয়া) একজন Rh পজিটিভ (Rh+) পুরুষকে বিয়ে করেন, তবে তাদের প্রথম সন্তান সাধারণত সুস্থ থাকলেও পরবর্তী সন্তানরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলে।
প্রথম গর্ভাবস্থা: প্রথম সন্তানটি যদি বাবার মতো Rh+ হয়, তবে প্রসবের সময় গর্ভফুলের মাধ্যমে বাচ্চার Rh+ রক্ত মায়ের (Rh¯) রক্তে মিশে যায়। এর ফলে মায়ের শরীরে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
পরবর্তী গর্ভাবস্থা: পরবর্তী কোনো সন্তান আবার Rh হলে, মায়ের শরীরে আগে থেকে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিগুলো প্লাসেন্টা বা জরায়ুর মাধ্যমে ভূণের রক্তে প্রবেশ করে। এই অ্যান্টিবডিগুলো ভূণের লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয়।
পরিণতি: এর ফলে গর্ভের সন্তান রক্তশূন্যতায় ভোগে, জণ্ডিস হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গর্ভপাত ঘটে বা মৃত সন্তান প্রসব হয়। যদিও বর্তমানে Anti-D ইনজেকশনের মাধ্যমে এই সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব, তবে সচেতনতার অভাবে এটি বড়ো ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
যেহেতু সাদিয়া জানতেন যে দম্পতির Rh ফ্যাক্টরের অমিল ভবিষ্যৎ সন্তানদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই বংশগতির জটিলতা এড়াতে তার নেওয়া সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ছিল।