| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘লাল পলাশের ভস্মস্তূপে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

লাল পলাশের ভস্মস্তূপে কীসের জ্বালা
স্তব্ধ অধীর বজ্রগর্ভ মেঘের মতো?
শিবির-সীমায় মনের ছায়ায় ইতস্তত
ছড়ায় সে তার কূট-মন্ত্রণা ঘৃণায় ঢালা
দুই শতকের সেই একদিন মনে কি পড়ে?
মিরজাফরের গুলির শিখায়, সমুদ্রত
নিভলো তোমার দিনের সূর্য দিগন্তরে
দূর গোধুলীর সেই একদিন মনে পড়ে?
মনে কি পড়ে?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'ক্লাইভের গাধা' হচ্ছে মিরজাফর।
সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কোম্পানি এক কোটি, কলকাতার বাসিন্দারা সত্তর লক্ষ এবং ক্লাইভ দশ লক্ষ টাকা পাবেন বলে চুক্তি হয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ষড়যন্ত্রকারীরা ক্লাইভের সঙ্গে চুক্তি করে। এ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে ক্লাইভের আনা দলিলে বিশ্বাসঘাতকেরা সই করে। চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক কোটি টাকা পাবে। এছাড়া কলকাতার বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ বাবদ পাবে সত্তর লক্ষ টাকা এবং ক্লাইভ সাহেব পাবেন দশ লক্ষ টাকা। অন্যদের টাকা সম্পর্কে নাটকে উল্লেখ করা না হলেও এ চুক্তিপত্রে জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, মিরন সবাই স্বাক্ষর করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার শিবিরে তাঁর বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা উদ্দীপকের তৃতীয় ও চতুর্থ চরণের সঙ্গে বিশেষভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আলোচ্য নাটকে পলাশির যুদ্ধে যথেষ্ট লোকবল ও সমরশক্তি থাকা সত্ত্বেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে ইংরেজদের বিপক্ষে নবাব সফল হতে পারেননি। দেশবিরোধী চক্রান্তকারীরা প্রাসাদে বসেই নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকের তৃতীয় ও চতুর্থ চরণে যুদ্ধের সময় শিবির-সীমার কূট- মন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে। এই কূট-মন্ত্রণা নিঃসন্দেহে ঘৃণ্য কাজ। আর এই কূট-মন্ত্রণার প্রভাবই দেখতে পাই নবাব সিরাজউদ্দৌলার শিবিরে। নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাঁর অমাত্যদের চক্রান্ত করতে দেখা যায়। উদ্দীপকের তৃতীয় ও চতুর্থ চরণ নাটকের সে দৃশ্যগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল চেতনা হলো বিশ্বাসঘাতকতার কাছে দেশপ্রেমের পরাজয়, যা উদ্দীপকে সমভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল উপজীব্য হলো নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম। কিন্তু এ নাটকের ঘটনাপ্রবাহে উঠে এসেছে এক বেদনাবিধুর পরিণতি। সেনাপতি ও অমাত্যদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কাছে নবাবকে বরণ করতে হয় করুণ পরিণতি। ফলে বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজয় ঘটে দেশপ্রেমের।
উদ্দীপকে আলোচ্য নাটকের চেতনাকেই উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাকে স্মরণ করা হয়েছে। মিরজাফর এই চক্রান্ত করেছিল নবাবের শিবিরে বসেই। মূলত তার এ বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন এবং বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য ডুবে গিয়েছিল। এ ভাবেরই ব্যঞ্জনা বহন করছে 'নিভলো তোমার দিনের সূর্য দিগন্তরে' পঙক্তিটি।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি মিরজাফর ও অন্যান্য অমাত্যদের ষড়যন্ত্রের ফলে গভীর বেদনা নিয়ে পরাজয় বরণ করেছেন। তাঁর সে মর্মবেদনাই রূপায়িত হয়েছে উদ্দীপকের কবিতাংশে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল চেতনার মিল রয়েছে।