| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘লামিয়া টবে একটি…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

লামিয়া টবে একটি মরিচের বীজ রোপন করল। কিছুদিন পরে সেই বীজ থেকে চারা উৎপন্ন হলো এবং ধীরে ধীরে চারাগাছটির দৈহিক বৃদ্ধি ঘটতে লাগল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
অতীতে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ যার নিদর্শন একমাত্র জীবাশ্মে পাওয়া যায় এর সাথে জীবন্ত কোনো প্রজাতির সাদৃশ্য থাকলে উক্ত প্রজাতিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। Cycadales বর্গের অন্তর্গত বেশ কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে যা পৃথিবীতে মেসোজোয়িক যুগে বর্তমান ছিল। কিন্তু বর্তমানকালে জীবিত নগ্নবীজী উদ্ভিদ Cycas এর অতীতে বিলুপ্ত সাইকাডোফিলিকেলিস ও বেনিটাইটেলিস বর্গের অন্তর্গত উদ্ভিদ প্রজাতির সাথে অনেক মিল থাকায় সাইকাসকে (Cycas) জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের তৃতীয় ধাপ অর্থাৎ মেটাফেজ পর্যায়ে মেটাকাইনেসিস ঘটে থাকে। নিচে মেটাফেজ পর্যায়টি বর্ণনা করা হলো-
মেটাফেজ পর্যায়ের প্রথমেই সমস্ত ক্রোমোসোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অলে এসে অবস্থান করে। স্পিন্ডল যন্ত্রের দু'মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে বিষুবীয় বা নিরক্ষীয় অঞ্চল বলা হয়। কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোসোমের বিনাস্ত হওয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে। এ পর্যায়ে ক্রোমাটিড়গুলো সবচেয়ে বেশি মোটা, খাটো ও স্পট দেখা যায়। ক্রোমোসোমের খাটো মোটা হওয়াকে বলা হয় কন্ডেনসেশন। একটি অতিমাত্রায় কয়েলিং প্রক্রিয়ায় এটি হয়ে থাকে তাই একে সুপার কয়েলিং বলা হয়। এ পর্যায়ে কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা, আকার ও আকৃতি নির্ণয় করা যায়। নিউক্লিয়ার এনভেলপ ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণ বিলুপ্ত থাকে। মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ ভাগে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য সেন্ট্রোমিয়ার সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। মাইটোসিস কোষ বিভাজনটি অনিয়ন্ত্রিত হলে জীবদেহে কী প্রভাব পড়ে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- আমরা জানি, মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে, ফলে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে এর ফলে টিউমার ও ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এই ভাইরাসের Er এবং E, নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে (যেমন- সাইক্লিন- cdk ও pi) স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় টিউমার। আবার এই দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার। ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ, এর ফলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত।