| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘লিমা চিড়িয়াখানার মূল…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

লিমা চিড়িয়াখানার মূল ফটকে জিরাফ ও ডাইনোসর-এর ছবি দেখে ভিতরে প্রবেশ করল। সে চিড়িয়াখানায় লম্বা গলাবিশিষ্ট জীবন্ত জিরাফ দেখলেও ডাইনোসর দেখতে পেল না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
আর্কিওপটেরিক্স হলো বিবর্তনিক সংযোগকারী প্রাণী জীবাশ্ম, যাতে সরিসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে।
সেসব অঙ্গ যেগুলো একসময় পূর্বপুরুষের দেহে সুগঠিত ও কার্যক্ষম ছিল, কিন্তু পরবর্তী বংশধরের দেহে গুরুত্বহীন, অগঠিত এবং অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে তাদেরকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলা হয় ।মানুষের উপপল্লব গুরুত্বহীন এবং অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে তাই মানুষের উপপল্লবকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলা হয়।
লিমার দেখা জীবন্ত প্রাণীটি হলো জিরাফ । জিরাফের বিশেষ দৈহিক গঠন বিবর্তনিক আলোকে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো :
ক. বৃদ্ধি : জীবের জীবদ্দশায় অস্তঃজীবনীশক্তির প্রভাবে একটি নিরদিষ্ট সীমা পর্যন্ত দেহের আকার এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উভয়েরই বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে৷ শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপ লক্ষ করলেও এ সত্য পরিলক্ষিত হয়, যেমন-0%/৫:২ থেকে 0949 পর্যন্ত প্রাণিগোষ্ঠির প্রত্যেক ধাপেই দেখা যায় দেহাকৃতি বৃদ্ধির একটি সাধারণ প্রবণতা ।
খ. পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সক্রিয় প্রচেষ্টা ও আঙ্গিক পরিবর্তন : পরিবেশ সদা পরিবর্তনণীল ৷ এ পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার জন্য যে অভাববোধের সৃষ্টি হয় তা পূরণের জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করায় এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে জীবদেহে নতুন অঙ্গের সৃষ্টি হয় বা অঙ্গের পরিবর্তন ঘটে । 'ল্যামার্ক মনে করতেন, পরিবেশ উদ্ভিদকে সরাসরি প্রভাবিত করে ফলে নতুন পরিবেশে দেখা দেয় উদ্ভিদের নতুন অঙ্গ, প্রাণীর বেলায় পরিবেশ প্রাণিদের মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত করে, তখন প্রাণী যা চায় তাই পায়। যেমন-জিরাফের স্নায়ুতন্ত্রই তাকে বাধ্য করেছে ঘাড় উঁচু করে গাছের পাতা খাওয়ার জন্য ।
গ. ব্যবহার ও অব্যবহার : পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার জন্য নতুন সৃষ্ট বা পরিবর্তিত অঙ্গটি যদি জীবদ্দশার পরবর্তী সময়ে ক্রমাগত ব্যবহৃত হয় তা হলে তা সুগঠিত, কার্যক্ষম ও বড় হবে ৷ অন্যদিকে, জীবদ্দশার 'পরবর্তী সময়ে অঙ্গটির অব্যবহারে তা ক্রমশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ছোট হতে থাকে, অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ঘ. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার : প্রতিটি জীবের জীবদ্দশায় অর্তিত সকল বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ বংশধরে সঞ্চারিত হবে। এভাবে, বংশ পরস্পরায় পরিবর্তিত চরিত্র সঞ্চারিত হতে থাকে এবং নতুন নতুন পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য অর্জিত হতে থাকে৷ ফলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে একটি প্রজাতির সদস্যদের সাথে এদের পূর্বপুরুষের আর তেমন মিল থাকে না। অর্থাৎ উদ্ভব ঘটে এক নতুন প্রজাতির ।
লিমার না দেখা প্রাণীটি হলো বিলুপ্ত প্রাণী ডাইনোসর।
পৃথিবীতে এক সময় ডাইনোসর প্রাণীদের বিচরণ ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে । কিন্তু তারা সমূলে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এদের অস্তিত্ব প্রমাণে বিবর্তনের “জীবাশ্ম ঘটিত বা ভূতত্ত্বীয় প্রমাণটি বেশি যুক্তিযুক্ত। জীবাশ্ম (Fossil) হলো প্রকৃত উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোনো অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্য ।
ভূত্বকের পাললিক শিলা গ্রানাইট পাথরের ভিত্তির উপর স্তরীভূত হয়ে সজ্জিত থাকে। ভূতত্ত্ববিদগণ এই পাললিক শিলাকে ৫টি প্রধান স্তরে চিহ্নিত করেছেন। প্রত্যেকটি স্তর সৃষ্টিতে যত সময় লেগেছে তাকে এরা (Era), প্রতিটি এরাকে' একাধিক পিরিয়ড ও প্রতিটি পিরিয়ডকে আবার (Epoch) ইপোকে ভাগ করেছেন। তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম লেড পদ্ধতি ও তেজস্ক্রিয় কার্বন পদ্ধতির মাধ্যমে জীবাশ্মের বয়স নির্ণয় করা হয়। উক্ত পদ্ধতিতে পাললিক শিলার মধ্যে প্রথম ১৯ শতকে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া যায়। একইরূপে ঘোড়া, হাতি, উটের বিবর্তনের ধারাও একই রকমে ফসিল থেকে পাওয়া যায়। অতএব, লিমার না দেখা প্রাণীটি অর্থাৎ ডাইনোসরের অস্তিত্ব এই জীবাশ্মঘটিত ও ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে নিখুঁতভাবে প্রমাণ করা যায়। কারণ এটি বিবর্তনের একটি নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।