| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ল্যামার্কিজম ও ডারউইনিজম…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ল্যামার্কিজম ও ডারউইনিজম দুটি মতবাদ বিবর্তন তত্ত্বের প্রকাশ করে। এছাড়া বিবর্তনের স্বপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণাদিও বিবর্তন তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
আদি শিলাস্তরে প্রস্তরীভূত অথবা পাললিক শিলাস্তরে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাংশ বা দেহের 'কোনো অংশের ছাপ কিংবা রাসায়নিক পদার্থে সৃষ্ট জীবদেহের অনুরূপ কাঠামোই হচ্ছে জীবাশ্ম।
দুটি নিকটবর্তী পর্ব বা শ্রেণির মধ্যবর্তী দশার জীবাশ্মকে সংযোগকারী যোগসূত্র বলে। এ ধরনের একটি জীবাশ্ম। আজ থেকে ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ বছর আগে জুরাসিক যুগে এর আবির্ভাব হয়েছিল। এর ধ্বংসাবশেষ জার্মানীর বেভেরিয়ার বিখ্যাত সোলেন হোপেন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। এতে রয়েছে পাখি এবং সরিসৃপ উভয় শ্রেণির বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। সে কারণে -কে সরিসৃপ থেকে পাখি উদ্ভবের এক পর্যায় বা সংযোগকারী যোগসূত্র বলে মনে করা হয়।
উদ্দীপকের ল্যামার্কের মতবাদের মূল ভিত্তি ছিল "অর্জিত গুণের উত্তরাধিকার" এবং অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন। এই মতবাদের প্রধান শ্রীমাবদ্ধতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
১. অর্জিত গুণের বংশগতি: ল্যামার্ক বিশ্বাস করতেন যে, জীবদ্দশায় অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু আধুনিক জিনতত্ত্ব প্রমাণ করেছে যে, শুধুমাত্র জনন কোষে সৃষ্ট পরিবর্তনই বংশগত হয়, দেহকোষে অর্জিত গুণাবলি বংশ হয় না।
২. অঙ্গ ব্যবহারের প্রভাব: ল্যামার্ক মনে করতেন, কোনো অঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহার বা অব্যবহারের ফলে তা উন্নত বা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু এটি সবসময় সঠিক নয়। যেমন- মানুষের জন্মের পর থেকে পেশি ব্যবহার করে শক্তিশালী হলেও তা সরাসরি পরবর্তী প্রজন্মে শক্তিশালী পেশি হিসেবে সঞ্চারিত হয় না।
৩. পরীক্ষামূলক প্রমাণ: ল্যামার্কের মতবাদের সপক্ষে জোরালো পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই। যেমন- বিজ্ঞানী ভাইজম্যান ইঁদুরের লেজ কেটে বার বার পরীক্ষা করেও লেজবিহীন ইঁদুর তৈরি করতে পারেন নি, যা অর্জিত গুণের উত্তরাধিকারের বিপক্ষে যায়।
৪. ইচ্ছাশক্তির প্রভাব ল্যামার্ক মনে করতেন প্রাণীর ইচ্ছাশক্তি বিবর্তনে ভূমিকা রাখে (যেমন- জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার ইচ্ছা)। এটি একটি অবৈজ্ঞানিক ধারণা।
এই কারণগুলোর জন্য ল্যামার্কের মতবাদটি বিবর্তনতত্ত্ব হিসেবে ডারউইনের মতবাদের মতো সর্বজনীন স্বীকৃতি পায়নি।
উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণাদি। বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণাদির মধ্যে অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ অন্যতম। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. তুলনামূলক অবস্থান :
(i) মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড: বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড পর্যবেক্ষণ করলে ক্রম বিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট ধারা পরিলক্ষিত হয়। মাছের দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড, উভচরের তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড, সরিসৃপের আংশিক চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড এবং পাখি ও স্তন্যপায়ীদের সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড সরল থেকে জটিল গঠনের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
(ii) মেরুদন্ডী প্রাণীর মস্তিষ্ক: মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ডের মতো মস্তিষ্কের গঠনেও ক্রম বিবর্তনের ধারা পরিলক্ষিত হয়। মাছ থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর মস্তিষ্ক ক্রম বিকাশে আকারে বড় হতে দেখা যায় এবং এদের সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ও সেরেবেলাম এর গঠন ক্রম জটিলতা পরিলক্ষিত হয়।
২. সমসংস্থ অঙ্গ: বিভিন্ন প্রাণীতে বিদ্যমান যেসব অঙ্গ গঠনের দিক থেকে অনুরূপ তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। পাখি ও বাদুরের ডানা, মানুষের হাত, ঘোড়ার সামনের পা এবং তিমির ফ্লিপার (দাঁড়ের মতো হাত) প্রভৃতি সমসংস্থ অঙ্গ।
৩. সমবৃত্তীয় অঙ্গ: বিভিন্ন প্রাণিতে বিদ্যমান যেসব অঙ্গ কাজের দিক থেকে অনুরূপ কিন্তু গঠন ও উৎপত্তির দিক থেকে ভিন্নতর হয় তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। যেমন- পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা সমবৃত্তীয় অঙ্গ।
৪. লুপ্তপ্রায় অঙ্গ: প্রাণীদেহে এমন কিছু অঙ্গ আছে যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয় বা কার্যক্ষম নয় বলে মনে হয়। এসব অঙ্গকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বলে। যেমন কানের পেশি, পিনিয়াল গ্রন্থি, কক্কিক্স, দেহের লোম ইত্যাদি।