| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মোঃ বজলুর রহমানের…’ a – বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, ইতিহাস, ইতিহাস ২য় পত্র (এইচএসসি)

মোঃ বজলুর রহমানের গায়ের রং কালো। তিনি দক্ষিণের কয়রা। উপজেলা থেকে খুলনা শহরে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। তিনি যেখানে ব্যবসায় করেন সেখানে তাকে কেউ মেনে নিতে পারছে না। এখানে তিনি বর্ণ এবং স্থানের বৈষম্যের। শিকার হলেন। এ নিয়ে মাঝে মাঝে অনেকের সাথে তার বিবাদেও লিপ্ত হতে হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
মার্টিন লুথার কিং আমেরিকার দক্ষিণে মন্টগোমারি, রাজ্যের আটলান্টা শহরে এক নিগ্রো যাজক পরিবারে ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গরা মার্টিন লুথারের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে শ্বেতাঙ্গরা হিংস্র হয়ে ওঠে। এছাড়া আমেরিকার কয়েকটি প্রদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রদের শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে খাওয়ার অধিকার ছিল না। আটলান্টা প্রদেশের একটি বিখ্যাত দোকানে তখনও বর্ণবিদ্বেষী প্রথা চালু ছিল। ফলে কিং বেশকিছু ছাত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে খাবার চাইলেন। কিন্তু শান্তিভঙ্গের দায়ে তাদের বন্দি করা হলে দেশজুড়ে কৃষ্ণাজাদের সামগ্রিক অধিকার লাভের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়।
উদ্দীপকের বজলুর রহমানের সাথে মহাত্মা গান্ধীর মিল রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর কার্যকলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী ভারতীয়দের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়রা কৃষ্ণাঙ্গ নামে পরিচিত ছিল। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকাতে ভারতীয়দের ওপর শ্বেতাঙ্গদের নির্মম নির্যাতন চলত। গান্ধীজিও অনেকবার শ্বেতাঙ্গদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এশিয়ার অধিবাসিগণ যাতে অবাধে বসবাস করতে পারে, ব্যবসায় বাণিজ্য করতে পারে তার জন্য বিদ্রোহ করে আফ্রিকানদের হাতে নির্যাতিত হন। তিনি আফ্রিকায় এশীয়বাসীদের ওপর অত্যাচার কমানোর জন্য বড় আন্দোলন ছেড়ে দিয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন। তিনি আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সভা-সমিতিতে আফ্রিকান শ্বেতাঙ্গ শাসক দ্বারা অপমানিত হন। তবুও তিনি উদ্যম ও সাহস নিয়ে শেষপর্যন্ত আফ্রিকার বুকে ভারতীয় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছিলেন।
প্রশ্নে উল্লিখিত উক্ত ব্যক্তিটি হচ্ছেন ভারতীয় জাতীয় নেতা মহাত্মা গান্ধী। তিনি আফ্রিকায় ভারতীয় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বড় বড় আন্দোলন ছেড়ে দিয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলনের পথ অনুসরণ করেন। সত্যাগ্রহ আন্দোলন হলো সত্যের পথে থেকে অহিংস উপায়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। তিনি যখন দেখলেন বিদ্রোহের ফলে আফ্রিকান শ্বেতাঙ্গ থেকে ভারতীয় কৃষ্ণাঙ্গরা অধিক ক্ষতিগ্রন্ত হয়েছে, তখন তিনি রাজনৈতিক পথ থেকে সরে বুদ্ধিমত্তার সাথে সাধারণ জনগণকে সত্যের পথে আসার অনুরোধ করেন। তিনি আফ্রিকায় বসবাসরত ভারতীয় কৃষ্ণাঙ্গদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের। ব্যবসায় বাণিজ্য, বসতবাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ফলে আফ্রিকান স্বেভাফগদের হাতে তাকে বহুবার লাঞ্ছিত হতে হয়। তবুও তিনি শ্বেতাকা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করেন। এ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গান্ধীজিকে অনেকবার কারাবরণ সহ্য করতে হয়। তার এ প্রচেষ্টায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রবাসী ভারতীয়দের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হন এবং পৃথিবীর বুক থেকে বর্ণবৈষম্য দূর করতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন।