| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘‘M’ একজন ছাত্র…’ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ২০২৬ – স্থানীয় শাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

‘M’ একজন ছাত্র এবং এ বছর সে ভোটার হয়েছে। নিয়মমাফিক একটি স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সে তিনজনকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়। যদিও সেখানে তিনটি শ্রেণি থেকে মোট তেরোজন নির্বাচিত হন। ‘M’ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। সে মনে করে, উক্ত সংস্থাটি স্থানীয় জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে এলাকার সর্বাধিক উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় শাসন বলতে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা স্থানীয়ভাবে পরিচালিত শাসনকে বোঝায়।
বাংলাদেশের শহর এলাকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পৌরসভা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭২ সালের স্থানীয় শাসন আদেশে সকল শহর কমিটিকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং পৌরসভা আইন অনুযায়ী ১ জন মেয়র এবং কয়েকজন কাউন্সিলর এবং কয়েকজন মহিলা কাউন্সিলর নিয়ে পৌরসভা গঠিত হয়। সকলেই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, পৌরসভার কার্যক্রম ৫ বছর।
উদ্দীপকের 'M' যে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোট দিয়েছে তা হলো ইউনিয়ন পরিষদ, যা এর নির্বাচিত সদস্য কাঠামো (মোট ১৩ জন) থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী, ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়। একটি ইউনিয়নকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে সাধারণ সদস্য এবং প্রতি ৩টি ওয়ার্ড থেকে একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এছাড়া সমগ্র ইউনিয়নের জনগণের সরাসরি ভোটে ১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকের 'M' তিনটি শ্রেণিতে (চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও মহিলা সদস্য) ভোট দিয়ে মোট ১৩ জনকে নির্বাচিত করার যে প্রক্রিয়ার কথা বলেছে, তা ইউনিয়ন পরিষদের গঠনের সাথে হুবহু মিলে যায়। এই পরিষদের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ১ জন সচিব থাকেন এবং পরিষদের মেয়াদকাল ৫ বছর।
উক্ত স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক করে তোলে।
জনগণ বিভিন্নভাবে এই পরিষদের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে। যেমন- বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও গণশুনানিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের মতামত ও স্থানীয় চাহিদা তুলে ধরতে পারে। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমেও জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব।
জনগণের এই অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটায় এবং কাজের প্রতি স্থানীয়দের সমর্থন ও আগ্রহ বৃদ্ধি করে। এটি পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ কমে আসে এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পায়।
অতএব বলা যায়, সভা-সেমিনার ও গণশুনানির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ইউনিয়ন পরিষদ একটি আদর্শ ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।