M ও N দুটি কলা। M কলাটির গঠন তরল ও N কলাটি Ca জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। N কলাটি M কলার নানা উপাদান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
টেনডন: মাংসপেশির প্রান্তভাগ দড়ি বা রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থির গায়ের সাথে সংযুক্ত হয়। এই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলে।
জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি। এর মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়। শ্বসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রে (তৃতীয় ধাপ) অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক এতে উপস্থিত থাকায় এ বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয় এবং ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা শক্তিঘর বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত N কলাটি Ca জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। যা স্কেলিটাল যোজক কলা।
দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে। এই কলা মূলত যোজক কলা। যোজক কলাতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম থাকে। এই টিস্যু দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন করে। দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়। অঙ্গ সঞ্চালন এবং চলনে সহায়তা করে। মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে। বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে। গঠনের ভিত্তিতে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু দুধরনের হয়। যেমন: কোমলাস্থি এবং অস্থি। কোমলাস্থি এক ধরনের নমনীয় স্কেলিটাল যোজক টিস্যু। মানুষের নাক ও কানের পিনা কোমলাস্থি দিয়ে তৈরি। অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর এবং অনমনীয় স্কেলিটাল কানেকটিড টিস্যু। এদের মাতৃকার ক্যালসিয়াম জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।
M কলাটির গঠন তরল যা তরল যোজক কলা। তরল যোজক কলার কোষগুলো নরম প্রকৃতির এবং এদের মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এই টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ করা এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা।
তরল যোজক কলা দু'ধরনের। যথা-রক্ত ও লসিকা। রক্ত-রক্তরস ও রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত। রক্তের তরল অংশ রক্তরস। এর প্রায় ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভেতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও বর্জ্য পদার্থ থাকে। ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। লোহিত রক্ত কণিকা দেহের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল যোজক কলা। লসিকার মধ্যে কিছু রোগ প্রতিরোধী কোষ থাকে, এদের লসিকাকোষ বলে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, তরল যোজক কলা মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
