| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাছ ব্যবসায়ী কাজল…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মাছ ব্যবসায়ী কাজল মাছকে সতেজ রাখার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। গতকাল সে রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত মাছ তার পরিবারের জন্য নিয়ে আসে। মাছ খেয়ে তার শিশুকন্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
AIDS-এর পূর্ণরূপ- Acquired Immune Deficiency Syndrome.
সাধারণ জলবায়ু বলতে একটি বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী আবহাওয়ার দৈনন্দিন অবস্থার অনেক দিনের বিবরণকে বোঝায়। আর জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কোন অঞ্চলের বা কোন দেশের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থার রূপান্তর, সংশোধন ও পরিবর্তনকে বোঝায়। জলবায়ু উপাদান সমূহের যেমন - উত্তাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির গড় হতে কোন অঞ্চলের জলবায়ুর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের কাজলের পঠিত নাগরিক সমস্যা খাদ্যে ভেজাল-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
সাধারণভাবে খাদ্যে ভেজাল বলতে খাঁটি বা আসল পণ্যের সাথে নিম্নমানের পণ্য বা রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ ঘটিয়ে বিক্রয় করাকে বোঝায়। এতে দ্রব্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধতা হারায়। বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়। খাদ্যদ্রব্যের সাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে। ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় অপরিপক্ব ফল পাকানো এবং এর রং আকর্ষণীয় করার ক্ষেত্রে। এসব ফল খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাছ ব্যবসায়ী কাজল মাছকে সতেজ রাখার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। গতকাল সে রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত মাছ তার পরিবারের জন্য নিয়ে আসে। মাছ খেয়ে তার শিশুকন্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখানে মূলত খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আমাদের প্রাত্যহিক নাগরিক জীবনে যে সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যে ভেজাল সমস্যা।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা অর্থাৎ খাদ্যে ভেজাল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমরা প্রতিনিয়ত যেসব খাবার গ্রহণ করি তার মধ্যে রয়েছে ভেজাল। ফসল তোলা থেকে শুরু করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজন । ভেজাল খাদ্য কীভাবে সমাজের ক্ষতি করছে এবং এর মারাত্মক পরিণতির বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী প্রচারণা এবং কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু জনগণ সচেতন হলেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত কিনা সেজন্য নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জরিমানা ও কারাদণ্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কড়াকড়িভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবার দায়িত্ব হবে নিজে খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অপরকে সচেতন করে তোলা।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।