| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাহমুদ চিকিৎসার জন্য…’ a – তাসাউফ, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

মাহমুদ চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে সে আজমিরে যায়। সেখানে গরিবে নেওয়াজ খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.)-এর মাজার যিয়ারত করে। সে লক্ষ করল অসংখ্য মানুষ প্রত্যহ এ মাজারে আসছে। অতঃপর সেখানে ইসালে সওয়াব শেষে অশ্রু ভেজা নয়নে সে নিজ দেশে রওয়ানা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
আবদুল কাদির জিলানি (র.)-কে ইরাকের বাগদাদ নগরীতে তার প্রিয় মাদরাসার বারান্দাতে দাফন করা হয়।
ইসলামে বৈরাগ্য নেই। কারণ রাসুল (সা.) স্বয়ং ঘরসংসার করেছেন, হাট-বাজার করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিবাহ করা আমার সুন্নাত। সুতরাং যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে সে আমার দলভুক্ত নয়।” সুতরাং বলা যায়, ইসলামে বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই।
উদ্দীপকের সাধক হলেন খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.)। তাঁকে খাজা গরিবে নেওয়াজ বলা হয়। কারণ, তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বসাধারণের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.) দীর্ঘ সময় দিল্লিতে অবস্থান করার পর তাঁর প্রাণপ্রিয় মুরিদ খাজা কুতুবুদ্দিনকে সেখানে রেখে নিজে আজমিরে গমন করেন এবং আজমিরকেই তাঁর প্রচারকার্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেন। সে সময় আজমির ছিল রাজপুত শক্তি, হিন্দু সাম্রাজ্যবাদ ও হিন্দুধর্মের আধ্যাত্মিকতার এক বিরাট ঘাঁটি। তারপরেও তিনি অসাধারণ সাধনাবলে এবং আধ্যাত্মিক গুণাবলি দ্বারা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সর্বসাধারণের নিকট অতি প্রিয় হয়ে উঠেন। এজন্য তাকে খাজা গরিবে নেওয়াজ তথা গরিব লোকদের সেবক বলা হয়।
সুতরাং বলা যায়, খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতেন, সেবা করতেন। এজন্য তাঁকে গরিবে নেওয়াজ বলা হয়।
খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.) ভারত উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক অবদান রাখেন।
৪০ জন অনুগামীসহ দিল্লিতে এসে হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন (র.) দ্বীন প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী ও মূর্তিপূজারি সভ্যতার শিকড়ে কুঠারাঘাত হানেন। দিল্লির মজলুম মুসলমানদেরকে তিনি সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি, সুমধুর বাক্য ও বিনম্র ব্যবহার এবং ইসলামের শাশ্বত সুন্দর আদর্শে মুগ্ধ হয়ে দিল্লিতে হিন্দুরা দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকে। সর্বোপরি দিল্লিতে তাঁর আগমন ও ইসলাম প্রচারের ফলে ইসলামি জীবনদর্শন ও ইসলামি আন্দোলন নবচেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তিনি আজমিরে গমন করে সেখানে তাওহিদের দাওয়াত দেন। ফলে অগণিত হিন্দুধর্মের লোকেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকেন। ইসলাম প্রচার প্রসারে খাজা মুইনুদ্দিন (র.)- এর দ্রুত সাফল্য দেখে হিন্দু কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী তাঁর বিরোধিতা শুরু করে। তবুও তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে দ্বীনের আহ্বান পৌঁছাতে থাকেন। দ্বীন প্রচারে তাঁর একনিষ্ঠ প্রয়াসের কারণে হিন্দুরা দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করছিল। খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.) ও তাঁর অনুসারী মুসলমানদের নির্মূল অভিযানে পৃথ্বিরাজ এক বাহিনী প্রেরণ করেছিল। পৃথ্বিরাজের বাহিনী মুসলমানদের মুখোমুখি হলে হযরত খাজা মুইনুদ্দিন (র.) এক মুঠো বালি তাদের ওপর ছুড়ে মারেন। এতে এক এলাহিকাণ্ড ঘটে যায়। সৈন্যগণ কেউ খোঁড়া, কেউ অন্ধ, কেউ বা পাগল হয়ে পলায়নপূর্বক আত্মরক্ষা করে। সৈন্যদের এরূপ দুঃখজনক পরিণতিতে পৃথ্বিরাজ বিচলিত হয়ে পড়েন এবং তাকে জাদু দিয়ে কাবু করার জন্য শ্রীরাম দেওকে হযরত খাজা (র.)-এর নিকট প্রেরণ করেন। কিন্তু ফল হলো উল্টো। তিনি খাজা সাহেবকে কাবু করতে এসে নিজেই কাবু হন। আল্লাহর এ প্রিয় বান্দার সংস্পর্শে এসে রাম দেও নিজেই ইসলাম কবুল করেন। রাম দেওকে পাঠিয়ে চরম ব্যর্থতার পর এবার পৃথ্বিরাজ দৈবশক্তিতে বলীয়ান জয়পালকে হযরত খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.)-এর দরবারে পাঠান। জয়পাল হযরত খাজা মুইনুদ্দিন (র.)-কে কাবু করার জন্য বহু জাদুর আশ্রয় নিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। পরিশেষে লজ্জিত হয়ে হযরত খাজার নিকট ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ পরাজিত ও নিহত হলে সমগ্র ভারত উপমহাদেশে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়।
উদ্দীপকে মাহমুদ চিকিৎসার জন্য ভারত গমন করে। দেশে ফেরার পথে সে খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.)-এর মাজার যিয়ারত করতে আজমেরি যায়। এ মহান অলি ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মহান অলি খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি (র.) ইসলাম প্রচারে ব্যাপক অবদান রাখেন।