| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২২ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবদ্ধ কাব্য’ অনুসারে রাম-রাবণের যুদ্ধে স্বপক্ষত্যাগী, বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী, অকৃতজ্ঞ ও স্বজনবিমুখ হিসেবে চিহ্নিত। অপরদিকে বীরবাহু, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদ দেশপ্রেমিক। নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা জীবনেউৎসর্গকারী। যদিও বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মেঘনাদ যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি। আজও বাঙালি সমাজে প্রবাদ হয়ে আছে- ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’।।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ ।
‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’– উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে।
শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ৷ হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে ।
বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে উদ্দীপকের বিভীষণের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর বাংলার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। নবাবের কাছে বারবার ক্ষমালাভ সত্ত্বেও তার চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনকে নিশ্চিত করার জন্য অধীনস্থ সৈনিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনে বিরত রেখেছে সে।
উদ্দীপকের বিভীষণ স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চিরশত্রু রামের পক্ষ নেয়। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় মেঘনাদ যুদ্ধ করার সুযোগ পর্যন্ত পায় না। বিভীষণের কারণেই লঙ্কাপুরীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় মেঘনাদ। দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার ঘৃণ্য উদাহরণ এই বিভীষণ । সুতরাং, ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর ও উদ্দীপকের বিভীষণ উভয়েই বিশ্বাসঘাতক চরিত্র। তারা দুজনেই দেশের সাথে, এমনকি আপনজনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। মিরজাফরের অপকর্মের জন্য পরাস্ত হয়েছিলেন দেশপ্রেমী সিরাজউদ্দৌলা, আর বিভীষণের জন্য মেঘনাদ। বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা না করলে মেঘনাদ লঙ্কাপুরীকে রক্ষা করতে পারত। আর সিরাজউদ্দৌলা বাঁচাতে পারতেন বাংলাকে। অতএব, বিশ্বাসঘাতকতার সূত্রে উদ্দীপকের বিভীষণের সাথে সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর সাদৃশ্যপূর্ণ।
“উদ্দীপকের মেঘনাদ ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, ষড়যন্ত্রের কাছে”- উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা একজন দেশপ্রেমী বীর ষড়যন্ত্রের জালের মধ্যে থেকেও নবাব বাংলাকে রক্ষা করতে প্রাণপণে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনীর সদস্যের নেতা হয়েও ষড়যন্ত্রের কাছে তাকে পরাজয় বরণ করতে হয় ।
উদ্দীপকে পৌরাণিক ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। লঙ্কার রাজা রাবণে বীরপুত্র মেঘনাদ। লঙ্কাপুরীকে রক্ষা করতে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে সে। মেঘনাদ কেবল বীরত্বের জন্য নয়; দেশপ্রেমেও অনন্য একটি চরিত্র। বীরযোদ্ধা হয়েও শেষ পর্যন্ত বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় যুদ্ধ | করার সুযোগ সে পায় না। উদ্দীপকের মেঘনাদের মতোই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে দেখা যায় ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে।
আলোচ্য উদ্দীপক ও নাটকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় উভয়ক্ষেত্রে যুদ্ধ নয় বরং ষড়যন্ত্রের কাছে মেঘনাদ ও সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। নবাবের প্রধান অমাত্য, সেনাপতি ও আত্মীয়স্বজন যদি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত না হতেন তবে বিশাল সেনা ও অস্ত্র শক্তির মালিক নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হতো না। অন্যদিকে | উদ্দীপকের বীর মেঘনাদ যদি ষড়যন্ত্রের শিকার না হতো তাহলে তাকেও হয়তো পরাজিত করা সম্ভব ছিল না। সুতরাং, এ বিবেচনায় নির্দ্বিধায় বলা যায়, উদ্দীপকের মেঘনাদ ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং ষড়যন্ত্রের কাছে।