| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য মৌলিক অধিকার প্রয়োজন।
মৌলিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যা রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য। নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা, স্বৈরাচারী শাসন প্রতিরোধ এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। মৌলিক অধিকার ছাড়া কোনো নাগরিকই তার জীবনের পূর্ণতা অর্জন করতে পারে না।
ছকে প্রদত্ত'?' চিহ্নিত স্থানে আইনগত অধিকার নির্দেশ করে।
অধিকারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- আইনগত অধিকার ও নৈতিক অধিকার। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে আইনগত অধিকার বলা হয়। আইনগত অধিকারের পিছনে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব থাকে। এ অধিকার ভঙ্গকারীকে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। জীবন ধারণের অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আইনগত অধিকারকে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার ইত্যাদি। আর নৈতিক অধিকার বলতে সেসব অধিকারকে বোঝায় যা নৈতিকতা ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। যেমন-দরিদ্রের সাহায্য পাওয়ার অধিকার, পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণ-পোষণের অধিকার ইত্যাদি। নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়। তাই এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনোরূপ শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার ভঙ্গকারীকে লোকনিন্দার সম্মুখীন হতে হয়।
আলোচ্য উদ্দীপকে অধিকারের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু অধিকারকে প্রধানত আইনগত ও নৈতিক অধিকার এ দুই ভাগে ভাগ করা হয় সেহেতু বলা যায়'?' চিহ্নিত স্থানে আইনগত অধিকার বসবে।
উদ্দীপকের ছকে (?) চিহ্নিত অধিকার অর্থাৎ আইনগত অধিকারের রক্ষাকবচগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আইনগত অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য এর রক্ষাকবচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নাগরিকের অধিকারকে সুরক্ষা দেয়। আইনগত অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচগুলো হলো-সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনগণের সচেতনতা। সংবিধানে অধিকারের উল্লেখ থাকলে তা অলঙ্ঘনীয় হয়ে ওঠে। আবার বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে নাগরিকরা রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে পারে। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করতে পারে।
উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত আইনগত অধিকারগুলো তখনই অর্থবহ হয় যখন রাষ্ট্র উপযুক্ত রক্ষাকবচ নিশ্চিত করে। যেমন- সামাজিক বা রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিকরা আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। বিচার বিভাগ যদি নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন থাকে, তবেই নাগরিকরা সঠিক বিচার পায়। এছাড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সদা জাগ্রত জনমত অধিকার রক্ষার শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, কেবল অধিকার ঘোষণা করলেই হয় না, তার কার্যকর প্রয়োগের জন্য শক্তিশালী রক্ষাকবচ প্রয়োজন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা আইনগত অধিকার রক্ষার প্রধান গ্যারান্টি। নাগরিকরা যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং রাষ্ট্র যদি আইনের শাসন সমুন্নত রাখে, তবেই আইনগত অধিকারের প্রকৃত সুফল ভোগ করা সম্ভব। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এই রক্ষাকবচগুলোই নাগরিক স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে।