| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা হলেন ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে কোনো সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী যারা নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে না। এরা সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থকে যথাসম্ভব আদায় করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। এরা সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সরকারের নীতিকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমানভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। শিক্ষক সমিতি, বণিকসভা, শ্রমিক ইউনিয়ন, ব্যাংক কর্মচারী ফেডারেশন, সুশীল সমাজ প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদাহরণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত '?' চিহ্নিত স্থানে আমার পাঠ্যবইয়ের রাজনৈতিক দল বিষয়টি নির্দেশিত করে ।
রাজনৈতিক দল এমন এক সংগঠন যার সদস্যগণ রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয়। রাজনৈতিক দল বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে, যেমন- দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিজ নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়ন রাজনৈতিক দলের স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ, শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ, জনমত গঠন প্রভৃতি। এছাড়াও গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে ছকে '?' সংগঠনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, স্বৈরাচার প্রতিরোধ, গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণ, রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ এবং নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন। পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, এখানে রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে। কেননা রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ ও নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ। আবার রাজনৈতিক দল তার কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে স্বৈরাচার প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণে ভূমিকা রাখে।
উক্ত সমস্যা সমাধানে অর্থাৎ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
সুশাসন এমন একটি প্রক্রিয়া যা অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক ও আইনের শাসনের প্রতি অনুগত। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক দল নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়। সুশাসনের জন্য আবশ্যক বৈশিষ্ট্য, যেমন- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক দল সক্রিয় ভূমিকা রাখে। নীতি নির্ধারণে জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আবার আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা জরুরি। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলের এমন দায়িত্বশীল আচরণ সহায়ক হয়।
সুশাসন কেবল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়, এক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতাও জরুরি। সচেতন নাগরিকগণ রাষ্ট্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং যেকোনো রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের জবাবদিহিতা আদায় করেন। সচেতন নাগরিকরা রাষ্ট্রের আইন মেনে চলেন এবং অন্যদেরও তা মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন। সচেতন নাগরিকরা যেমন তাদের অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি দায়িত্বশীল থাকেন তেমনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, যেমন- নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা সুশাসনের ভিত শক্তিশালী করেন। ফলে নাগরিক সচেতনতা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সচেতনতা উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।