| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাজেদ ইটের ভাটায়…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মাজেদ ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। তার অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে। এজন্য তাকে প্রায়ই ঠাণ্ডার সমস্যায় পড়তে হয়। তার শ্বাসনালীর ভিতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ায় সে শ্বাসকষ্টে ভোগে এবং প্রায় সারা বছর অসুস্থ থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণের সময় লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে বাইকার্বোনেট আয়নের ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্লাজমা থেকে যে ক্লোরাইড আয়ন লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে, তাকে ক্লোরাইড শিফট বা হ্যামবার্গার শিফট বলা হয়।
ফুসফুসের চারপাশ ঘিরে থাকা দ্বিস্তরী 'প্লুরা' নামক পর্দায় কোনো জীবাণুর সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে তাকে প্লিউরিসি বলা হয়। এই অবস্থায় ঘুরার দুই স্তরের মাঝে তরল জমে যায় অথবা স্তরগুলো রুক্ষ হয়ে একে অপরের সাথে ঘষা খায়। এর ফলে শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুস পর্যাপ্ত প্রসারিত হতে পারে না এবং বুকে তীর ব্যথা অনুভূত হয়। মূলত এই ব্যথা এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসে চরম কষ্ট অনুভব করে।
উদ্দীপকে মাজেদ মিয়ার শ্বাসকষ্ট এবং শ্বাসনালিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার লক্ষণগুলো থেকে বুঝা যায় তিনি মূলত সাইনুসাইটিস বা শ্বাসনালির কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগছেন। নিচে উদ্দীপকের আলোকে মাজেদ মিয়ার সমস্যার লক্ষণগুলো উল্লেখ করা হলো-
১. নাক থেকে হলদে বা সবুজ বর্ণের ঘন তরল বের হয়, এতে পুঁঞ্জ বা রক্ত থাকতে পারে।
২. দীর্ঘ ও বিরক্তিকর তীব্র মাথাব্যথা লেগে থাকে যা সাইনাসের বিভিন্ন অঞ্চলে হতে পারে।
৩. মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
৪. জ্বর জ্বর ভাব থাকে, কোনো কিছু ভালো লাগে না বরং অবসাদগ্রস্ত মনে হয়।
৫. নাক বন্ধ থাকে, নিঃশ্বাসের সময় নাক দিয়ে বাজে গন্ধ বের হয়।
৬. মুখমণ্ডল অনুভূতিহীন মনে হতে পারে।
৭. মাথাব্যথার সাথে দাঁতব্যথাও হতে পারে।
৮. কাশি হয় এবং রাতে কাশির তীব্রতা বেড়ে যায়; গলা ভেঙে যেতে পারে।
উদ্দীপকের মাজেদ যে সমস্যায় ভুগছেন তা মূলত সাইনুসাইটিস। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত-
১. ঘরোয়া প্রতিকার:
গরম ভাপ নেওয়া: প্রতিদিন ২৪ বার গরম পানির বাষ্প নাক দিয়ে টেনে নিতে হবে, যা মিউকাসকে তরল করতে সাহায্য করে।
তরল পানীয়: প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার পান করতে হবে।
সেঁক দেওয়া: গরম পানিতে ভিজিয়ে চিপড়ানো কাপড় দিয়ে প্রতিদিন বারবার মুখের ওপর ধরে রাখলে ব্যথা উপশম হয়।
নাসাল স্প্রে: প্রতিদিন কয়েকবার নেজাল স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সতর্কতা:
পরিচ্ছন্নতা: নাকে সবসময় ধুলোবালি বা অ্যালার্জেন প্রবেশ রোধে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
আর্দ্রতা বজায় রাখা: ঘরের বা পরিবেশের বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য হিউমিডিফায়ার বা আর্দ্রতা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশ্রাম: মাজেদের মতো কায়িক পরিশ্রমী ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. চিকিৎসা ও ওষুধ :
যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৩ – ৪ সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হতে পারে।
তীব্র মাথাব্যথা বা ১০২.২০ ফারেনহাইটের বেশি জ্বর থাকলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
মাজেদ যেহেতু ইটের ভাটায় কাজ করেন, তাই তাঁর জন্য কর্মক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করা এবং ধুলোবালি থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা।