| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাজেদ মাহতাব একজন…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মাজেদ মাহতাব একজন নামকরা চিত্রশিল্পী। তাঁর পুরো শিল্পকর্মকে দুভাগে ভাগ করা যায়- সহজবোধ্য ও দুর্বোধ্য। তাঁর অনেক সৃজনশীল কাজ রয়েছে যেগুলো শিল্পমানে কালোত্তীর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি কয়েকবার তাঁর শিল্পকর্মের প্রদর্শনী করেছেন এবং বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর কিছু চিত্রকর্ম রয়েছে সহজ, সুন্দর ও সাধারণের উপযোগী। চিত্রকলা একটি উঁচুমানের শিল্পকলা যাতে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। চিত্রকলার সাথে সাধারণের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতেই তিনি দু ধারায় কাজ করেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কৌপিন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন।
➤ প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মানের নিম্নতা প্রকাশের জন্য দু জাতীয় লেখক-পাঠকের কথা উল্লেখ করেছেন।
➤ প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' ও 'শূদ্র পাঠক' বলতে বিশেষ শ্রেণির লেখক ও পাঠকদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বৈশ্য ও শূদ্র হিন্দু সমাজের দুটি অনভিজাত বর্ণবিশেষ। বৈশ্যরা ব্যাবসা-বাণিজ্য করত। কোনো লেখক যদি সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে কার্য উদ্ধার করতে চান তাহলে তাকে লিখতে হবে উদ্দেশ্যপ্রবণ লেখা। আর এই লেখা হবে নিম্নমানের। এই জাতীয় লেখকগণ 'সৃষ্টি' করেন না, তারা 'উৎপাদন' করেন। এই জাতীয় লেখকদের তিনি 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন। আবার বৈশ্য লেখকের পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আরও নিম্নমানের হবে। তাই তাদের তিনি 'শূদ্র পাঠক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সারকথা: ব্যাবসার উদ্দেশ্য নিয়ে যারা বই লেখেন তাদেরকে প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন এবং 'শূদ্র পাঠক' বলেছেন তার চেয়েও নিম্নমানের পাঠককে।
➤ মাজেদ মাহতাব একজন নির্মোহ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে এমন মহৎ শিল্পীদের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে সাড়া জাগানো। তাই সাহিত্যকে হতে হবে সহজবোধ্য। নিজের পান্ডিত্য জাহির করে শুধু ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করলেই সাহিত্যের মান বাড়ে না। সাহিত্যের মান নির্ভর করে লেখাকে পাঠকের বোধগম্য করে তোলার উপর।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী যুক্তিতর্কের স্থলে সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিরূপণ করেছেন। এক্ষেত্রে 'খেলা' ও 'জুয়াখেলা' প্রসঙ্গটিও এসেছে। সাহিত্যচর্চার শৈল্পিক সিদ্ধি ঠিক রাখতে চাইলে সাহিত্য নিয়ে 'খেলা' করার বিকল্প নেই। খেলা নির্মল আনন্দ দেয় এবং এতে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো প্রাপ্তির আশা কেউ করে না। কিন্তু লেখক যদি তার সাহিত্যকর্ম থেকে প্রাপ্তির যোগ প্রত্যাশা করেন তাহলে সাহিত্যচর্চার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব একজন সৃজনশীল চিত্রশিল্পী। তিনি ছবি আঁকেন মনের আনন্দে। শুধু যোদ্ধাদের জন্যই তিনি ছবি আঁকেন না। কিংবা কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ও তিনি তুলে ধরেন না। এক্ষেত্রেই প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্য দর্শনের সঙ্গে তাঁর চিন্তাচেতনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
সারকথা: সাহিত্য জগৎ হচ্ছে খেলা করার জগৎ। তা না করে সাহিত্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাজেদ মাহতাব কোনো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি থেকে ছবি আঁকেন না। তাই তিনি সত্যিকারের সৃজনশীল চিত্রশিল্পী।
➤ "উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের মান নির্ভর করে পাঠকের আনন্দ ও বোধগম্যতার ওপর। যতই উচ্চমার্গীয় সাহিত্য হোক না কেন- তা যদি পাঠকের বোধগম্য না হয় তাহলে সেটাকে যথার্থ সাহিত্য বলা যায় না। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্য পাঠকসমাজে সমাদৃত হতে পারে না।
➤ উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের শিল্পীজীবন দুই ধারায় বিভক্ত। শিল্পকলা সৃষ্টির এক ধারায় তিনি নির্মাণ করেছেন ক্লাসিক ধারার চিত্রকলা এবং বিপরীত পথে নির্মাণ করেছেন সহজবোধ্য কিছু চিত্র। জনপ্রিয় ধারায় কিছু কাজ করলেও সেটা তিনি প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে করেননি। সাধারণ মানুষকে চিত্রকলার অনুপম দ্বাদ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি তা করেছেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ ছিল না।
➤ স্যাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য হচ্ছে এই যে, "সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।" সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। আপন মনের আনন্দেই সাহিত্য রচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে মাজেদ মাহতাবের চিত্রকর্মকে এই দুই পর্যায়ের মাঝামাঝি রাখতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে তিনি কিছুটা আপস করেছেন। সাধারণ জনজীবনকে সম্পৃক্ত করতেই মাজেদ মাহতাব কিছু সহজবোধ্য ছবি এঁকেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব শিল্পমানে উত্তীর্ণ ক্লাসিক্যাল চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। আবার চিত্রকলার সঙ্গে সাধারণকে পরিচয় করিয়ে দিতে কিছু সহজবোধ্য কাজ করেছেন। প্রমথ চৌধুরীর আদর্শের সঙ্গে তা পুরোপুরি যথার্থ নয়।