| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাখন যেন ভয়ে…’ a – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মাখন যেন ভয়ে ভয়েই বলে ‘আজ অনেকগুলো টাকা জিতেছি।’ নলিনী সাড়া দেয় না। প্রায় সাতশ। নলিনী তবু সাড়া দেয় না। তোমায় একটা গয়না গড়িয়ে দেব- যা চাও।’ নলিনী চুপ করিয়া থাকে।… কে চায় তোমার গয়না: একবার কাছে ডাকতে পার না আমায়?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
মসিয়ের বন্ধুরা ভরতপাখি শিকারে নানতিয়ারের সমভূমিতে গিয়েছিল।
➤ 'তাই এই অনুষ্ঠানে আমার না যাওয়াই ভালো হবে।'- এ কথা মাতিলদা বলেছিল তার স্বামীকে। কারণ দামি গহনা না থাকায় ঐ অনুষ্ঠানে যাওয়া তার ভালো মনে হয়নি।
➤ 'নেকলেস' গল্পে মাতিলদার বস্তুগত সম্পদ তথা দামি পোশাক, দামি গহনা প্রভৃতির প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। তার স্বামী লোইসেল তার জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসে। জনশিক্ষা মন্ত্রীর সেই অনুষ্ঠানে অনেক ধনী ব্যক্তি দামি পোশাক পরে এবং তাদের স্ত্রীরা দামি গহনা পরে আসবে ভেবে সে সংকোচবোধ করে। আর তাদের সমকক্ষ হওয়ার জন্য তার প্রয়োজন ভালো পোশাক এবং দামি গহনা। পোশাকের ব্যবস্থা হলেও দামি গহনার ব্যবস্থা সে করতে পারবে না জেনে স্বামীকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
সারকথা: দামি গহনা না থাকার কারণে মাদাম লোইসেল মনে করে যে ঐ অনুষ্ঠানে তার না যাওয়াই ভালো।
➤ উদ্দীপকের নলিনীর সঙ্গে 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার প্রত্যাশার দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ মানুষের চাওয়ার শেষ নেই। একজন যত পায় তত চায়। মানুষের প্রত্যাশা অনুসারে প্রাপ্তি ঘটে না। ফলে না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে অনেকেই মানসিক অশান্তিতে ভোগে। আবার অনেকেই অল্পে তুষ্ট থাকে। তাদের জীবন হয় সুখ-শান্তির।
➤ উদ্দীপকে একজন অল্পে তুষ্ট থাকা নারীর কথা বলা হয়েছে। এখানে নলিনী তার স্বামীর কাছে গয়না চায় না, শুধু তার স্নেহ- ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। উদ্দীপকের নলিনীর এই প্রত্যাশা 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার প্রত্যাশার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ এ গল্পে মাতিলদা শুরুতে একজন উচ্চাভিলাষী নারী ছিল। সে বিলাসী জীবনযাপনের প্রত্যাশা করত। স্বামীর গভীর ভালোবাসাকে সে প্রথমে অনুভব করতে পারেনি। তার বাসকক্ষের দারিদ্র্য, হতশ্রী দেয়াল, জীর্ণ চেয়ার এবং বিবর্ণ জিনিসপত্রের কারণে সে ব্যথিত হতো। অথচ তার মতো অবস্থার অন্য কোনো মেয়ে এসব জিনিস যদিও লক্ষ করত না, সে এতে দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হতো। তার স্বামী তাকে খুশি করতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্র এনে দিলে সে দামি পোশাক ও দামি গহনা না থাকার কথা ভেবে বিরক্ত হয়ে নিমন্ত্রণপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অথচ উদ্দীপকের নলিনী এসব প্রত্যাশা করেনি। সে শুধু তার স্বামীর ভালোবাসা প্রত্যাশা করেছে।
সারকথা: 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার প্রথম জীবনের প্রত্যাশার সঙ্গে উদ্দীপকের নলিনীর প্রত্যাশা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ "উদ্দীপকের মাখন এবং 'নেকলেস' গল্পের লোইসেল দুজন বিপরীত মেরুর মানুষ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ অর্থ-বিত্ত দিয়ে মানুষের মূল্য ও মর্যাদা নির্ণয় করা যায় না। মানুষের প্রতি মানুষের যে অনুরাগ ও ভালোবাসা তা অত্যন্ত মানবিক। সবাই তা যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। কারণ অনেকের কাছে বস্তুগত সম্পদের তুলনায় ভালোবাসা তুচ্ছ।
➤ 'নেকলেস' গল্পে মাতিলদার বস্তুগত সম্পদ যেমন- দামি পোশাক, দামি গহনার প্রতি প্রবল আকর্ষণ। এসবের চিন্তায় সে বেশি মত্ত থাকত। তার স্বামী লোইসেল তাকে এসবের ব্যবস্থা করে দিতে না পারলেও তাকে খুশি রাখার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করত। তাকে সে প্রচন্ড ভালোবাসত। কিন্তু তার ভালোবাসা প্রথম জীবনে মাতিলদা বুঝতে পারেনি। সেই কারণেই সে নিজেকে অতৃপ্ত ও অসুখী মনে করত। লোইসেল তাকে খুশি করতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার নিমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করে এনেছে। স্ত্রীকে পোশাক কেনার জন্য নিজের জমানো চারশ ফ্রাঁয়ের পুরোটাই দিয়ে দিয়েছে। অথচ গ্রীষ্মে বন্ধুদের সঙ্গে শিকারে যাওয়ার বন্দুক কেনার জন্য সে ঐ অর্থ জমিয়ে ছিল। 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার প্রতি লোইসেলের বিপরীতধর্মী হচ্ছে উদ্দীপকের মাখনের আচরণ।
➤ উদ্দীপকের মাখন তার স্ত্রীকে ভালোবাসে না। সে অনেক টাকা জিতে স্ত্রীকে একটা গয়না গড়িয়ে দিতে চায়। স্ত্রী যা চায় তা সে বুঝতে পারে না। স্ত্রীকে সে যেভাবে খুশি করতে চায় তা 'নেকলেস' গল্পের লোইসেলের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ নলিনীর চুপ করে থাকার কারণ সে অনুধাবন করতে পারে না। মাতিলদা চুপ করে থাকলে তার স্বামী তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করে, চুপ থাকার কারণ অনুসন্ধান করে তার সমাধান করে। নলিনীর স্বামী তা করে না। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'নেকলেস' গল্পে লোইসেল তার স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসে। সে তার স্ত্রীর চুপ থাকা বা মন খারাপের কারণ বুঝতে পারে। উদ্দীপকের মাখন তা বুঝতে পারে না। স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা টাকা-গহনার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে আন্তরিকতা নেই। এ কারণেই প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।