| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মামুন চিড়িয়াখানায় বেড়াতে…’ বরিশাল বোর্ড ২০২১ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মামুন চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে জিরাফের খাঁচার সামনে এসে প্রাণীটির লম্বা গলা দেখে বিস্ময়াভিভূত হলো। কিছুক্ষণ পর সে একটি ডাইনোসরের প্রতিকৃতি দেখতে পেল
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
আপাতদৃষ্টিতে যেসব অঙ্গের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামোর অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের সেগুলোই সমসংস্থ অঙ্গ।
নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে কোনো জীবের নামকরণে প্রথমে গণের নাম এবং পরে প্রজাতির নাম ব্যবহার করে, দুই শব্দের সমন্বয়ে যে নামকরণ করা হয় তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৮ সালে দ্বিপদ নামকরণের সুইডিস নীতিমালা প্রবর্তন করেন। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Home sapiens | এক্ষেত্রে Homo হলো মানুষের গণ-এর নাম এবং sapiens হলো মানুষের প্রজাতি নামের নির্দেশক।
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত প্রাণীটি হলো জিরাফ। জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার কারণ সম্পর্কিত মতবাদটি ল্যার্মাক মতবাদ তথা ল্যামাকিজম । ল্যার্মাকের মতবাদের প্রস্তাবনাসমূহ নিম্নরূপ :
১. জীবনধারণের প্রয়োজনে পরিবেশ প্রতিটি প্রাণীর গঠন, আকৃতি ও পি সংগঠনকে প্রভাবিত করে।
২. কোনো অঙ্গের পুনঃপুন ব্যবহার বা প্রতিনিয়ত ব্যবহার সে অঙ্গকে সুগঠিত করে এবং তার বৃদ্ধি ঘটায়। আবার কোনো অঙ্গ ব্যবহৃত না হলে তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে যায় এবং শেষপর্যন্ত ক্ষয়প্রাপ্তি বা বিলুপ্তি ঘটে।
৩. পরিবেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রাণীর দেহে নতুন অঙ্গের উদ্ভাবন হয়। এ নতুন অঙ্গের আকার ও বিকাশ তার ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল ।
৪. ব্যবহার ও অব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ কর্তৃক আনীত সব পরিবর্তন প্রাণীর দেহে সংরক্ষিত হয়
এবং প্রজননের মাধ্যমে তা পরবর্তী বংশে সঞ্চারিত হয়।
উদ্দীপকের শেষোক্ত প্রাণীটি হলো ডাইনোসরের প্রতিকৃতি । জীবাশ্ম প্রমাণ থেকে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আদি শিলাস্তরের প্রস্তরীভূত অথবা পাললিক শিলাস্তরে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত।
প্রাগৈতিহাসিক (বিলুপ্ত) জীবের দেহ, দেহাংশ বা দেহের কোনো অংশের ছাপ কিংবা রাসায়নিক পদার্থে সৃষ্ট জীবদেহের অনুরূপ কাঠামোকে জীবাশ্ম বলা হয়। অর্থাৎ অতীতে যেসব ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাদের দেহাংশ বা হাড়, কঙ্কাল, ডিমের খোলস ইত্যাদি। এছাড়া শিলাস্তরের উপরে প্রাপ্ত পায়ের ছাপকে কার্বন রেডিয়েশন দ্বারা পরীক্ষার মাধ্যমে ডাইনোসরদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে মেসোজয়িক মহাকালের ট্রায়াসিক কালে ডাইনোসরের উদ্ভব ঘটেছিল যা আজ থেকে সাড়ে ২২ কোটি বছর পূর্বে। আবার মেসোজয়িক মহাকালের ক্রিটেসিয়াস কালে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে যা আজ থেকে সাড়ে ১৩ কোটি বছর আগে।
তাই উপরোক্ত মহাকালের ক্রিটেসিয়াস কালের প্রাপ্ত জীবাশ্ম থেকে সহজেই ডাইনোসরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় ।