| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মামুন তার পৈত্রিক…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – ইসলামের অর্থব্যবস্থা, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মামুন তার পৈত্রিক সম্পত্তি চাষাবাদের কাজে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিচালিত একটি ব্যাংক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। মামুনের নলকূপের পানি দিয়ে গ্রামের কৃষকরা অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। নাফিজ তার বাড়িটি মর্টগেজ দিয়ে লাভ লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি ব্যাংক হতে বিশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে একটি পোশাক তৈরির কারখানা দিয়েছেন। সেখানে গ্রামের অনেক ব্যক্তি ঋণ দিয়ে উপার্জন করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
'উশর' শব্দের অর্থ এক-দশমাংশ।
যথাযথভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনী ও গরিবের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।
মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্য ধনী ও গরিবের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। ধনীরা দরিদ্রদের অবহেলা করে, আর দরিদ্ররা ধনীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে। যথাযথভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার এ বৈষম্য কমে আসে। তাদের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়। ধনীরা গরিবদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে আর গরিবরাও ধনীদের ভালোবাসে। এভাবে পরস্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
উদ্দীপকের মামুনের ঋণ নেওয়া ব্যাংকটি সুদভিত্তিক ব্যাংক। যে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ প্রদান বা বিনিয়োগ তথা যৌমগ্রিক কর্মকাণ্ড পূর্বনির্ধারিত সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তাকে সদভিত্তিক ব্যাংক বলে। এ ধরনের ব্যাংক ইসলামি শরিয়তের বিধানের পরিবর্তে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার আলোকে পরিচালিত হয়। যা মামুনের ঋণ নেওয়া ব্যাংকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, মামুন তার পৈত্রিক সম্পত্তি চাষাবাদ করতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিচালিত একটি ব্যাংক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মামুন সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়েছেন। প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থা মানবিক কল্যাণের চিন্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সুদ হলো শোষণের হাতিয়ার। সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থায় বৈধ-অবৈধের কোনো বালাই নেই। মুনাফাই এখানে মুখ্য বিষয়। সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থা সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। এটি ধনীকে আরও ধনী এবং দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করে। এজন্য ইসলামি শরিয়তে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং বা সুদি কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেননা সুদ সম্পূর্ণরূপে ইসলামি চেতনা ও মানবতাবিরোধী। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- 'হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো।' (সুরা আলে ইমরান: ১৩০)
নাফিজ কোনো একটি ইসলামি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন।
যে ব্যাংকের সব কর্মকাণ্ড ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি পদ্ধতির ব্যাংক বলে। ইসলামি ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদান বা বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড সুদমুক্ত। এ ব্যাংকের লেনদেন লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যা নাফিজের ঋণ নেওয়া ব্যাংকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, নাফিজ তার বাড়ি মর্টগেজ দিয়ে লাভ- লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি ব্যাংক থেকে বিশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পোশাক তৈরির একটি কারখানা দিয়েছেন। তার কারখানায় গ্রামের অনেক মানুষ কাজ করেন। নাফিজের ঋণ নেওয়া ব্যাংকটির সাথে ইসলামি ব্যাংকের মিল রয়েছে। ইসলামি ব্যাংক ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যাংক। এটি সুদের বিকল্প ও মানবকল্যাণমুখী আর্থিক লেনদেন প্রবর্তন করে। এতে সরাসরি টাকার কারবার না করে পণ্যের ব্যবসায় করা হয়। ইসলামি ব্যাংক অবৈধ বা হারাম উপার্জনকে নিষেধ এবং বৈধ বা হালাল উপার্জনকে উৎসাহিত করে। এটি অর্থব্যবস্থায় আদল ও ইহসান প্রতিষ্ঠা করে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইসলামি ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেকারত্ব দূর এবং মানুষের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এতে মুনাফার চেয়ে জনকল্যাণের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাকাত আদায় ও বণ্টনের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ব্যাংক সহায়তা করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি ব্যাংক ইসলামি শরিয়তের আলোকে পরিচালিত। প্রচলিত সুদি লেনদেনের পরিবর্তে এখানে লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে অংশীদারিত্বমূলক আর্থিক লেনদেন করা হয়।