A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ নাটক ও উপন্যাস🧩 অধ্যায় ২য় অধ্যায় — লালসালু🔢 সৃজনশীল নং ২৯🏫 বোর্ড সিলেট বোর্ড📅 সাল ২০২২⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে হোসেন মিয়া এক রহস্যময় চরিত্র। প্রথম জীবনে চাল-চুলোহীন অবস্থায় কেতুপুর গ্রামের জহর মাঝির বাড়িতে আশ্রয় নিলেও পরবর্তীকালে তিনি এই এলাকার বিশেষ একজন হয়ে ওঠেন। সকলকেই তিনি মিয়া বলে সম্বোধন করেন, কথা বলেন হাসি মুখে, এগিয়ে আসেন সবার বিপদে-আপদে। কিন্তু মনে তার অন্য চিন্তা, সবার অজান্তে অবৈধ ব্যবসা করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল প্রতিপত্তি।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ২

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

'লালসালু' উপন্যাসটি প্রথম ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

‘শস্যের চেয়ে টুপি বেশী, ধর্মের আগাছা বেশী।’ ‘লালসালু’ উপন্যাসে এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রকাশ পায় বেশির ভাগ বাঙালির ধর্মীয় জ্ঞানের অজ্ঞতা, ধর্মভীরুতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র।ধর্মভীরু মানুষকে কাজে লাগিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই উপন্যাস। একদিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মভীরু শোষিত মহব্বতনগর গ্রামের পরিত্যক্ত একটি কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে চিহ্নিত করে, এত দিন এই মাজারকে গুরুত্ব না দেওয়া বা ফেলে রাখার দায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনি। ভণ্ড মজিদ স্বার্থসিদ্ধির জন্য গ্রামের মাতবর, প্রতারক খালেক ব্যাপারীকেই সহযোগী হিসেবে বেছে নেয়। অল্প দিনের মধ্যেই ফুলেফেঁপে ওঠা মজিদ বিয়ে করে বিধবা যুবতি রহিমাকে। মজলিসি ঢঙের নিজস্ব বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক অজ্ঞানতার জায়গাটিকে আক্রমণ করে ধর্মভীরু মানুষকে বশে রাখার চেষ্টা করে মজিদ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের হোসেন মিয়া 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। 

‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ শস্যহীন জনবহুল এক অঞ্চল থেকে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মহব্বতনগর গ্রামে আসে। এখানে এসে সে একটি অঞ্চলে কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বলে প্রতিষ্ঠিত করে। এই মাজারকে কেন্দ্র করে সে মহব্বতনগরে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। গ্রামের সহজ-সরল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে সে তার ধর্মব্যাবসা চালিয়ে যায়। 

উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার এক কালে কিছুই ছিল না। কেতুপর গ্রামের জহর মাঝির বাড়িতে আশ্রিত থাকত সে। পরবর্তীকালে সে সেই এলাকার বিশেষ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন । গ্রামের সকলেই তার অনুগ্রহ প্রার্থী । তিনি ও হাসিমুখে সকলের বিপদে সাহায্য করেন। কিন্তু সকলের অজান্তেই সে গড়ে তুলেছিল তার অবৈধ্য ব্যাবসার সাম্রাজ্য। মূলত আপাতদৃষ্টে ভালো মানুষের রূপ ধরে সকলের অগোচরে অনৈতিক ও অধর্ম অনুসরণ করার দিক থেকে হোসেন মিয়া ও মজিদ একে অন্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

ব্যক্তিস্বার্থকে মুখ্য করে দেখায় হোসেন মিয়া এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একই পথের পথিক। 

আলোচ্য উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মকে অসৎভাবে ব্যবহার করেছে। সে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ঠকানো গর্হিত কাজ জেনেও সে তা করতে দ্বিধা করেনি। কেননা, সে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে এবং সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে এর চেয়ে ভালো উপায় আর পায়নি। শুধু তা-ই নয় যাকে সে তার পথের কাঁটা মনে করেছে, ধর্মকে ব্যবহার করে তাকেই নির্মমভাবে প্রতিহত করেছে ।

উদ্দীপকের হোসেন মিয়া একজন স্বার্থসন্ধানী মানুষ। তার হাসি-মুখের আড়ালে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী চেতনা । সে সকলের অজান্তেই গড়ে তোলে অবৈধ ব্যাবসার বিশাল কারবার। 

উদ্দীপকের হোসেন মিয়া গ্রামের মানুষের বিপদে এগিয়ে এলেও তার পেছনে লুকিয়েছিল তার স্বার্থসন্ধানী চিন্তা-চেতনা। তেমনি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও দারিদ্র্যপীড়িত জীবন এবং গারো পাহাড়ের কষ্টের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেতে, জীবিকা অর্জনের তাগিদে সে মহব্বতনগরে মোদাচ্ছের পিরের মাজার খুলে বসে। গড়ে তোলে তার স্বার্থের সাম্রাজ্য। যদিও হোসেন মিয়া আর মজিদের প্রতিষ্ঠা লাভের ওপর ছিল দুই ধরনের। মজিদ মানুষের অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারাচ্ছন্নতার সুযোগ নিয়ে ধর্মব্যাবসা শুরু করে আর হোসেন মিয়া অন্যায়ভাবে অবৈধ্য ব্যাবসার মধ্য দিয়ে প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। তবে তাদের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন । তার তা হলো ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করা । তাই তারা একই পথের পথিক ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”