মানবদেহে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মাধ্যমে পরিবেশ থেকে দুইটি গ্যাসীয় পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে।
শ্বাসনালি স্বল্পযন্ত্রের নিম্নাংশ থেকে ফুসফুসের নিকটবর্তী হয়ে ডান ও বামদিকে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যথাক্রমে ডান ও বাম ফুসফুসে প্রবেশ করে। এগুলোই হলো ব্রঙ্কাই।
রাতে গাছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, ফলে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না এবং CO₂ গ্যাস শোষিত হয় না। কিন্তু রাতে গাছে শ্বসনের কার্যক্রম চলতে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ CO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়। ফলে বড় গাছের নিচে বাতাসে CO₂ এর ঘনমাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই রাত্রিবেলা বড় গাছের নিচে CO₂ বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিনিময় প্রক্রিয়াটির অঙ্গটি হলো মানব ফুসফুস। ফুসফুসের মাধ্যমে মানবদেহে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানবদেহে গ্যাসীয় পরিবহণ বলতে O₂ ও CO₂ এর বিনিময়কে বোঝায়। এটি মূলত বায়ু এবং ফুসফুসের রক্তনালিকার ভিতরে ঘটে। মানবদেহে গ্যাসীয় বিনিময়কে অক্সিজেন শোষণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
শ্বসনের সময় অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুসফুস থেকে রক্তে প্রবেশ করে। রক্তে প্রবেশ করার পর অক্সিজেন মুক্ত অবস্থায় থাকে না। এর একটি বড় অংশ লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক একটি অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। এ যৌগ গঠন রক্তরসে অক্সিজেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। দেহে রক্ত পরিবহণের সময় বেশ কিছু পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরস থেকে কলারস বা লসিকায় প্রবেশ করে। ফলে রক্তরসে অক্সিজেন রক্তরস ও পরে লসিকা বা কোষরসে প্রবেশ করে। অক্সিজেন পরিবহণের সময় নিম্নলিখিত ঘটনার অবতারণা হয় তা হলো-
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন → অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন → মুক্ত অক্সিজেন + হিমোগ্লোবিন
রক্ত কৈশিকনালিকাতে পৌঁছানোর পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ, কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে। খাদ্য জারণ বিক্রিয়ায় কোষে CO₂ তৈরি হয়। এই CO₂ প্রথমে কোষাবরণ ভেদ করে বাইকার্বনেটরূপে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
আর এভাবেই, উল্লিখিত পদ্ধতিতে O₂ এবং CO₂ এর পরিবহণ ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের ফুসফুস। ধূমপানের কারণে এই অঙ্গের নানারকম ক্ষতি হয়ে থাকে। নিচে ধূমপানের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি ও ফুসফুসের অঙ্গের সুস্থতায় করণীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
সিগারেটের ধোঁয়ায় ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে ক্ষতির সৃষ্টি হয়ে অ্যালভিওলাস আয়তনে বেড়ে যায় এবং কোনো কোনো স্থান ফেটে ফুসফুসের ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে এমফাইসেমা বলে। এ রোগে ফুসফুসের শ্বসন অঞ্চল হ্রাস পায়, ফুসফুসের কোষে স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ সিগারেটের ধোঁয়ার CO2 ট্রাকিয়া ও ব্রংকাসের সিলিয়াকে অবশ করে দেয়। এতে ট্রাকিয়া বা ফুসফুস ধুলাবালি ও রোগজীবাণু মুক্ত থাকতে সহায়ক হয়। কিন্তু সিলিয়া অবশ হয়ে গেলে ট্রাকিয়ায় মিউকাস জমে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এ সিগারেটের ধোঁয়ার CO2 ট্রাকিয়া ও ব্রংকাসের সিলিয়াকে অবশ করে দেয়। এতে ট্রাকিয়া বা ফুসফুস ধুলাবলি ও রোগজীবাণু মুক্ত থাকতে সহায়ক হয়। কিন্তু সিলিয়া অবশ হয়ে গেলে ট্রাকিয়ায় মিউকাস জমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় যা ব্রংকাইটিস নামে পরিচিত। তাছাড়াও রক্তের হিমোগ্লোবিনে CO2 শোষিত হয়। এতে রক্তের O₂ পরিবহনের ক্ষমতা কমে যায়। CO2 ধমনির ভেতরে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। ফলে ধমনি গহ্বর সংকীর্ণ বা বন্ধ হয়ে O₂ সরবরাহ কমিয়ে দেয়। হৃৎপিন্ডের ধমনিতে এমন হলে হার্ট অ্যাটান হয়। এছাড়াও সিগারেটের ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ৯০% ফুসফুসীয় ক্যান্সার ধূমপানের কারণে হয় বলে মনে করা হয়।
ফুসফুসের বায়ুথলির গাত্র অত্যন্ত পাতলা বলে ধূমপান করলে তামাকের দহনে উৎপন্ন নিকোটিন সরাসরি বায়ুথলির গাত্রে গিয়ে আঘাত করে। এতে বায়ুথলির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয় এবং পরবর্তীতে অ্যালভিওলাই শক্ত হয়ে যায় এবং সর্বশেষে ধ্বংস হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক বায়ুথলির নষ্ট হওয়া শ্বসনে প্রভাব ফেলে এবং ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখ হয়। ধূমপানের কারণে বিভিন্ন অসুখ যেমন-হাঁপানিসহ ফুসফুসের ক্যান্সার পর্যন্ত ঘটতে পারে।
সুতরাং ধূমপান ফুসফুসের অনেক ক্ষতি করে এবং ধূমপান হতে বিরত থাকলে ফুসফুসকে ক্ষতির হাত হতে রক্ষা করা যায়। তাই আমাদের সকলের ধূমপান হতে বিরত থাকা উচিত।
