| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহে শর্করা পরিপাকের…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৪ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহে শর্করা পরিপাকের জন্য উইসাং নালি বহনকারী পৌষ্টিক গ্রন্থি ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে শোষিত খাদ্যসার অতিরিক্ত হলে সাইনুসয়েড বহনকারী ‘y’ নামক পৌষ্টিক গ্রন্থিতে সঞ্চিত থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
দুইবার গজায় এমন দাঁতকে ডাইফায়োডন্ট বলা হয়।
যে প্রক্রিয়ায় স্নেহ জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে পৌছালে পিত্তরসে উপস্থিত পিত্তলবণের প্রভাবে চর্বির ক্ষুদ্র বিন্দুগুলো ভেঙে অতি ক্ষুদ্র পানিতে দ্রবণীয় কণায় পরিণত হয় তাকে ইমালসিফিকেশন বলে। এই প্রক্রিয়ার কারণে স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের উপযোগী হয়। লাইপেজ এনজাইম তখন স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে, যা সহজেই ভিলাই কর্তৃক শোষিত হয়।
মানবদেহে শর্করা পরিপাকের জন্য উইসাং নালি বহনকারী পৌষ্টিক গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। কারণ অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয় এবং উইসাং নালি গঠন করে।
খাদ্য পাকস্থলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার সময় ক্ষারীয় তরলরূপী অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশকে দু'ধরনের ক্ষরণ মিলে অগ্ন্যাশয় রস হিসেবে পরিপাককারী এনজাইম গঠন করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় বিভিন্ন ধরনের পরিপাককারী এনজাইম। এরূপ শর্করা পরিপাককারী ২টি এনজাইমের নাম ও কাজ নিচে দেওয়া হলো—
অ্যমাইলেজ: এই এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।
মল্টেজ: এই এনজাইম মল্টেজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত লাইনে বর্ণিত "y" পৌষ্টিক গ্রন্থিটি হলো যকৃৎ। পরিপাক সংশ্লিষ্ট কাজ ছাড়াও সাইনুসয়েড বহনকারী যকৃত দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। অতিরিক্ত শোষিত খাদ্যসার যকৃতে জমা থাকে যা উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য যকৃতকে জীবন সমুদ্রের কর্মমুখর পোতাশ্রয় বলা হয়। নিচে যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা তুলে ধরা হলো-
১. পিত্তরস সঞ্চয়: যকৃতের ডান খণ্ডাংশের নিচে থলির মতো পিত্তাশয় সংযুক্ত থাকে । এখানে যকৃত কর্তৃক উৎপন্ন পিত্তরস সঞ্চিত হয়।
২. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: যকৃতে আগত অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস পদ্ধতিতে সংশ্লেষিত হয়ে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চিত হয় এবং দেহের প্রয়োজনে তা পুনরায় গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃত বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনসমূহ সঞ্চয় করে রাখে যা পরবর্তীতে নিঃসরিত হয়। যকৃত প্রধানত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E ও K) সঞ্চয় করলেও, পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনও (B ও C) সঞ্চয় করে।
৪. লিপিড সঞ্চয়: রক্তের অতিরিক্ত লিপিড যকৃতে গ্লাইকোলিপিডরূপে সঞ্চিত হয়।
৫. খনিজ দ্রব্য সঞ্চয়: যকৃত ভিটামিনের সাথে কিছু খনিজ দ্রব্যও সঞ্চয় করে, যেমন— লৌহ, পটাসিয়াম, কপার ও জিংক।
৬. রক্ত সঞ্চয়: যকৃতস্থ বিশাল রক্তবাহিকাসমূহের সাহায্যে যকৃত প্রায় ১৫০০ ঘন সে.মি. পর্যন্ত রক্ত সঞ্চয় করে রাখতে পারে যা দেহের বিভিন্ন রক্তক্ষরণজনিত ঘটনায় মূল রক্তসংবহনের সাথে মিলিত হয়ে রক্তচাপের সমন্বয় ঘটায়।