| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের বিভিন্ন স্থানে…’ a – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নালীবিহীন কোষ বা কোষগুচ্ছ বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে। এ তরল পদার্থ রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে দেহের দূরবর্তী স্থানে বিভিন্ন জৈবিক কাজ সম্পন্ন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
দেহে অনুপ্রবেশকারী জীবাণু বা কোনো অবাঞ্ছিত বহিরাগত পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য মানুষের রক্তের সিরামে উৎপন্ন বিশেষ এক ধরনের প্রোটিনই হলো অ্যান্টিবডি।
মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জন্ম সময় থেকে নয়, বরং জন্মের পর কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে সাড়া দেওয়ায় কিংবা ভ্যাক্সিন প্রয়োগের ফলে সৃষ্টি হয় তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা বা অনাক্রম্যতা বলে। অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি স্পেসিফিক ইমিউনিটি। অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দু'রকম। যথা- (ক) সক্রিয় প্রতিরক্ষা এবং (খ) অসক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা।
উদ্দীপকে যে জৈব রাসায়নিক পদার্থের কথা বলা হয়েছে তা হলো হরমোন। দৈহিক বৃদ্ধি সাধনে মূলত গ্রোথ হরমোন ও থাইরোক্সিন হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে। এদের কার্যপদ্ধতি নিম্নরূপ-
গ্রোথ হরমোন ও থাইরোক্সিন হরমোনের কাজ:
১. অস্থি, তরুণাস্থির কোষগুলোর পূর্ণতাপ্রাপ্তিসহ এগুলোর বৃদ্ধি, অস্থিতে ক্যালসিয়াম আয়ন সঞ্চয় ইত্যাদি কাজে এরা ভূমিকা রাখে।
২. কোষের অ্যামিনো অ্যাসিড গ্রহণ ও প্রোটিন সংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি করে, ফলে দেহে পেশির বৃদ্ধি ঘটে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ ও মুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেহের ক্ষয়রোধ করে।
৩. অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন শোষণ ও বৃক্ক থেকে বিভিন্ন আয়ন পুনঃশোষণ করে দেহে বিভিন্ন আয়নের পরিমাণ বর্ধন ও দৈহিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ হলো গ্রোথ হরমোনের একটি বিশেষ ভূমিকা।
৪. মস্তিষ্ক ছাড়া দেহের সকল নরম অঙ্গাদির আকার বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে গ্রোথ হরমোনের প্রভাবই বেশি।
৫. শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির জন্য স্তনগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে অধিক দুগ্ধ উৎপাদনে গ্রোথ হরমোন সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থটি হরমোন। হরমোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানব জীবনের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. দেহ ও মুখমন্ডলের ত্বকের বিভিন্ন অংশে অ্যাকনি বা বিশ্রি দাগ পড়া।
২. স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়, একে গাইনেকোমাস্টিয়া বলে।
৩. অপরিণত বয়সে মাথায় টাক দেখা দেয়।
৪. দেহের ভালো কোলেস্টেরল HDL (High density lipoprotein) এর মাত্রা কমে যায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল LDL. (low- density lipoprotein) এর মাত্রা বেড়ে যায়।.
৫. HGH গ্রহণে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
৬. অ্যাক্রোমেগালি রোগ হয়, এক্ষেত্রে দেহে অস্বাভাবিকভাবে বেশি লোম গজায়।
৭. পেশির দুর্বলতা ও হৃদরোগ দেখা দেয়।
৮. প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
৯. বৃদ্ধের অকার্যকারিতা, লিভার টিউমার, লিভার অকার্যকারিতা, শুক্র উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, যৌন ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি দেখা দেয়।
১০. আচরণে রুক্ষ্মতা, উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা দেখা দেয়।