| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের বক্ষ গহ্বরে…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের বক্ষ গহ্বরে বায়ুপূর্ণ বিশেষ অঙ্গ থাকে, যা অসংখ্য থলি সদৃশ ক্ষুদ্র এককে গঠিত। এই একক অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময়ে সাহায্য করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
অতীতকালের বিলুপ্ত কোনো জীবের জীবাশ্মের বৈশিষ্ট্য বর্তমানকালের জীবিত কোনো প্রজাতির মধ্যে লক্ষ করা গেলে বর্তমানকালের এসব প্রজাতিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
সামাজিক প্রাণী বললেই প্রথমে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে মৌমাছিসহ একটি মৌচাকের কথা। আর একটি মৌচাকে যে সদস্যরা থাকে তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে অবস্থান ও কাজে নিযুক্ত থাকে। চাকের প্রত্যেক সদস্য নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে অন্য সদস্যদের কল্যাণে একমনে কাজ করে যায়। সমাজের সদস্যদের এমন মনোভাবই হলো অ্যালট্রুইজম।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্ষ গহ্বরে বায়ুপূর্ণ বিশেষ অঙ্গটি হলো ফুসফুস। ফুসফুসের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক এবং কার্যকরী একক হলো অ্যালভিওলাস। নিচে অ্যালভিওলাসের গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
অ্যালভিওলাস অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির বুদবুদ সদৃশ এক প্রকার বায়ু থলি। এরা গ্যাস আদান-প্রদানকারী তল গঠন করে। মানুষের দুটি ফুসফুসে ৭০ কোটির বেশি অ্যালভিওলাস থাকে এবং এরা প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তন তলের সৃষ্টি করে। অ্যালভিওলাসের ব্যাস ০.২ মি.মি. এবং এর প্রাচীর মাত্র ০.০০০১ মি.মি. বা ০.১ মাইক্রোমিটার পুরু। অ্যালভিওলাসের বাইরের দিকে প্রচুর পরিমাণে কৈশিক জালক নিবিড়ভাবে অবস্থান করে।
এরা পালমোনারি ধমনি থেকে উৎপন্ন হয় এবং পুনরায় মিলে পালমোনারি শিরা গঠন করে। প্রত্যেকটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত। যার জন্য অতি সহজেই গ্যাসের ব্যাপন ঘটাতে পারে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক সূত্রক থাকে। স্থিতিস্থাপক সূত্রের জন্য নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাস সহজেই প্রসারিত হতে পারে এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। অ্যালভিওলাস প্রাচীরে কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে। এ পদার্থকে সারফেকট্যান্ট বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় গ্যাসটি হলো । ফুসফুস গহ্বরের ভিতরে অ্যালভিওলাই এর বাতাস এবং এগুলোর প্রাচীরে অবস্থিত কৈশিক নালির রক্তের মধ্যে ও এর বিনিময় ঘটে। নিচে রক্তের মাধ্যমে গ্যাসের পরিবহণ কৌশল বিশ্লেষণ করা হলোশর্করা জারণের সময় কোষে সৃষ্টি হয়। এ দেহের জন্য ক্ষতিকর। কোষ থেকে রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বায়ুতে মুক্ত হয়। নিচে বর্ণিত তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে রক্তে পরিবাহিত হয়।
কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহনে রক্তের ভূমিকা: রক্ত কোষীয় শ্বসনে উৎপন্ন ফুসফুসে পৌঁছে দেয় এবং তা শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে বাইরে নির্গত হয়। রক্ত প্রধানত তিনটি উপায়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে। যথা-
i. ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) -এর সাথে রক্তের প্লাজমার পানির বিক্রিয়ায় কার্বনিক এসিড উৎপন্ন হয়ে রক্তে পরিবাহিত হয়।
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে: লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে যুক্ত করে কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনো প্রোটিন গঠন করে। মোট -এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো ষৌগরূপে পরিবাহিত হয়।
iii. বাইকার্বনেট যৌগরূপে:-এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।