| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থিটির…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থিটির পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা আছে। এটি এর হারিয়ে যাওয়া টিস্যুর ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরায় তৈরি করতে পারে যা অন্য কোনো বড় অঙ্গ পারে না। এটি একটি জৈব রাসায়নিক কারখানা যা নিয়মিত ৫০০ এর বেশি বিক্রিয়া সম্পন্ন করে। অন্যদিকে আরেকটি চমৎকার অঙ্গ শক্তিশালী খনিজ এসিড সরবরাহ করে যা ধাতু গলিয়ে ফেলতে পারে। এই অঙ্গের সুরক্ষার জন্য মিউকাস-বাইকার্বোনেটের একটি পুরু আবরণ থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পিত্তরসে বিদ্যমান পিত্তলবণ দ্বারা (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট) স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করার প্রক্রিয়াই হলো ইমালসিফিকেশন।
মাছের বায়ুথলি একটি আড়াআড়ি ভাঁজ দিয়ে সম্মুখস্থ ছোট ও পেছনের বড় প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। সামনের প্রকোষ্ঠটি নিউমেটিক নালি দ্বারা অন্ননালির পৃষ্ঠীয় অংশের সঙ্গে যুক্ত থাকে। নিউমেটিক নালি দ্বারা অন্ননালির বায়ুথলির সঙ্গে এরূপ সংযুক্তি থাকায় এ ধরনের বায়ুথলিকে ফাইসোসটোমাস ধরনের বায়ুথলি বলা হয়। যেমন- রুই, কাতলা ইত্যাদি মাছ। আবার, অনেক মাছে (যেমন- কই, টাকি) এ ধরনের সংযুক্তি থাকে না। তাদের বায়ুথলি ফাইসোক্লিস্টাস বায়ুথলি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। নিচে এর ক্ষরণ প্রক্রিয়ার ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-
পাকস্থলির ক্ষরণকারী ভূমিকা প্রধানত এর অন্তঃপ্রাচীরে থাকা প্রায় ৪ কোটি গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির ওপর নির্ভরশীল। এই গ্রন্থিগুলো প্রতিদিন প্রায় ২ লিটার গ্যাস্ট্রিক রস বা পাচকরস নিঃসরণ করে। পাকস্থলির প্যারাইটাল কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়। এই অ্যাসিড পাকস্থলিতে অম্লীয় মাধ্যম তৈরি করে খাবারের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। পেপটিক কোষ থেকে পেপসিনোজেন ও রেনিন নামক এনজাইম ক্ষরিত হয়। পেপসিন মূলত আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে পেপটোন ও প্রোটিওজে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন দুধের প্রোটিন হজমে সাহায্য করে। মিউকাস কোষ থেকে মিউসিন ক্ষরিত হয়। এটি পাকস্থলির ভেতরের প্রাচীরকে পিচ্ছিল করে এবং অ্যাসিডের হাত থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে।পাকস্থলির গ্যাস্ট্রিন কোষ থেকে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা পুরো পাচকরস নিঃসরণ প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আরজেন্টাফিন কোষ থেকে এমন এক ধরনের উপাদান নিঃসৃত হয় যা ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে। লাইপেজ নামক এনজাইমও এখান থেকে সামান্য পরিমাণে ক্ষরিত হয় যা চর্বি জাতীয় খাদ্য ভাঙতে কাজ করে। উপরিউল্লিখিত সামগ্রিক ক্ষরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পাকস্থলি খাদ্য পরিপাক এবং শরীরের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গটি হলো যকৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। সঞ্চয়ী কাজের পাশাপাশি যকৃত বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যকৃতের সঞ্চয়ী ও বিপাকীয় ভূমিকা মানবদেহকে সচল রাখে। নিচে তা প্রয়োজনীয় তথ্যসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো-
যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, যা পিত্তথলিতে জমা হয়। এ পিত্তরসের পিত্তলবণ স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিকিকেশন প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে। এছাড়া পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী লাইপেজ এনজাইমকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে। আবার হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে যকৃত কোষে জমা হয়। যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C), নিকোটিনিক অ্যাসিড এবং ফলিক অ্যাসিড সঞ্চয় করে। এছাড়া সুস্থদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ যেমন- কপার, জিংক প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে। রক্তের অতিরিক্ত লিপিড যকৃতে গ্লাইকোলিপিড হিসেবে সঞ্চিত হয়। এছাড়া যকৃত প্রায় ১৫০০ ঘন সে.মি. পর্যন্ত রক্ত সঞ্চয় করে রাখতে পারে।
যকৃত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শর্করা বিপাকের গ্লাইকোজেনেসিস, গ্লুকোনিওজেনেসিসসহ অনেক প্রক্রিয়া যকৃতে সংঘটিত হয়। যকৃত রক্তের প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষ করে। প্রোটিন বিপাকের ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া সৃষ্টি হয় যা অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে ইউরিয়া গঠন করে। যকৃত মৃতপ্রায় লোহিত রক্তকণিকাসমূহকে রক্ত থেকে অপসারণ করে এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকা গঠনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করে। এছাড়া যকৃত বিষাক্ত পদার্থ, ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর পদার্থ রক্ত থেকে অপসারণ করে।