মানবদেহের একটি বিশেষ অঙ্গ যা দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
বৃক্কের ভেতরের দিকের অবতল অংশের ভাঁজই হলো হাইলাস।
মানবদেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে। শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে মূত্রের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। এভাবে অসমোরেগুলেশনের মাধ্যমে দেহে পানির সমতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের শেষের অঙ্গাণুটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো বৃক্ক বা কিডনি। বৃক্ক বা কিডনি বিকল হলে বৈজ্ঞানিক উপায় বা ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন করা যায়। নিচে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো-
বৃক্ক মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপর্ণ রেচন অঙ্গ। বৃক্ক অকেজো বা বিকল হলে রক্তে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করতে পারে না। এজন্য ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিস হলো বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার একটি পদ্ধতি। সাধারণত ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনটির ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভিতর পুনরায় প্রবেশ করে। এভাবেই ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
তাই উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বৃক্ক বা কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তথা ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন করা সম্ভম্ব।
