| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের একটি পরিপাক…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের একটি পরিপাক অঙ্গের কার্যসাধনে কার্ডিয়াক ও পাইলোরিক স্ফিংক্টারস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যের যান্ত্রিক পরিপাক ও রাসায়নিক ভাঙ্গনের জন্য উক্ত অঙ্গটি অত্যন্ত কার্যকর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পাকস্থলির ছন্দবদ্ধ আন্দোলনই হলো পেরিস্ট্যালসিস।
মানবদেহের দুটি গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি কোষের নাম হলো-
i. প্যারাইটাল কোষ এবং
ii. গ্যাস্ট্রিক চিফ কোষ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। নিচে চিহ্নিত চিত্রসহ পাকস্থলির গঠন বর্ণনা করা হলো-
মানুষের পাকস্থলি নিম্নলিখিত পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১. কার্ডিয়া : অন্ননালি সংলগ্ন পাকস্থলির অংশকে কার্ডিয়া বলে। এতে অন্ননালি উন্মুক্ত হয় এবং এটি কার্ডিয়াক স্ফিংটার নামক পেশিবলয় ধারণ করে।
২. ফান্ডাস : পাকস্থলির কার্ডিয়ার নিচের ও বাম পাশের গম্বুজাকৃতির উঁচু অংশকে ফান্ডাস বলে। পরিপাকের সময় সৃষ্ট গ্যাস ফান্ডাসে জমা থাকে।
৩. দেহ বা কর্পাস : পাকস্থলির প্রধান অংশকে দেহ বা কর্পাস বলে। এটি পাকস্থলির সর্ববৃহৎ অংশ এবং এখানে অধিকাংশ খাদ্যের পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
৪. অ্যান্ট্রাম: পাকস্থলির ফান্ডাসের নিচের বাঁকা অংশকে অ্যান্ট্রাম বলে। অন্ত্রে প্রবেশের পূর্বে এখানে খাদ্য সাময়িকভাবে জমা থাকে।
৫. পাইলোরাস: অন্ত্রের ডিওডেনাম সংলগ্ন পাকস্থলির অংশকে পাইলোরাস বলে। এটি পাইলোরিক স্ফিংটার নামক পেশিবলয় ধারণ করে।
উদ্দীপকের উল্লেখিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। অস্বাভাবিক সময়ের অনাহারে পাকস্থলির শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন নিচে আলোচনা করা হলো:
পাকস্থলির অন্তঃপ্রাচীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কোষ থেকে HCI ও বিভিন্ন পরিপাক এনজাইম নিঃসৃত হয়। এগুলো এতই শক্তিশালী যে এরা ধাতব পদার্থ ও জীবিত কোষকে বিগলিত করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু পাকস্থলি নিজে পরিপাক না হয়ে অস্বাভাবিক সময়ের অনাহারে নিম্নোক্তভাবে অভিযোজিত করে।
১. মিউকাস আবরণ: পাকস্থলির অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াল কোষ থেকে নিঃসৃত মিউকাস আবরণ HCI ও বিভিন্ন পরিপাক এনজাইমের মাঝে ভৌত প্রতিবন্ধক তৈরি করে।
২. আঁটসাঁট সংযুক্তি: পাকস্থলির অন্তঃপ্রাচীরে বিদ্যমান
এপিথেলিয়াল কোষগুলোর আঁটসাঁট সংযুক্তি HCI কিংবা পরিপাক এনজাইম পাকস্থলির কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
৩. কোষের প্রতিস্থাপন: পাকস্থলির অন্তঃপ্রাচীরে বিদ্যমান এপিথেলিয়াল কোষগুলো 3-6 দিন বাঁচে। এগুলো সর্বদা নতুন কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে পাকস্থলির সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
৪. এনজাইম সক্রিয়করণ: পরিপাক রসে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয় প্রো- এনজাইম পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন পাকস্থলিতে HCI এর সংস্পর্শে সক্রিয় পেপসিন ও রেনিনে পরিণত হয়। এতে অনেক HCI প্রশমিত হয়।
৫. বাইকার্বনেট নিঃসরণ: পাকস্থলির অন্তঃগাত্র হতে নিঃসৃত বাইকার্বনেট ক্ষারীয় দ্রবণ HCI কে প্রশমিত করে।