| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের প্রতিরক্ষার জন্য…’ a – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের প্রতিরক্ষার জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্তর। প্রতিরক্ষা দানকারী। প্রতিটি এন্টিবডি এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো টিকা প্রদান। [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
৯ সপ্তাহ পর ভ্রূণ যখন প্রায় মানুষের অবয়ব লাভ করে সেই ভূণই হলো ফিটাস।
যে প্রতিরক্ষা স্তর কোন নির্দিষ্ট বহিরাগত বস্তুকে ক্ষতিকর হিসাবে টার্গেট না করে সব বহিরাগত পদার্থকেই ক্ষতিকর বিবেচনা করে দেহে প্রবেশে ভৌত-রাসায়নিক প্রতিবন্ধকের মিলিত কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাকে নন-স্পেসিফিক স্তর বলা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর নন-স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা স্তর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। নিচে অ্যান্টিবডির গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. ভারী ও হালকা শৃঙ্খল প্রত্যেক অ্যান্টিবডিতে দু'জোড়া পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে। এর মধ্যে সদৃশ একজোড়া লম্বা ও ভারী শৃঙ্খল এবং অন্য জোড়া সদৃশ হালকা শৃঙ্খল।
২. ডাইসালফাইড বন্ড প্রত্যেক অ্যান্টিবডিতে অন্তত ৩টি আন্তঃশৃঙ্খল ডাইসালফাইড বন্ড রয়েছে।
৩ . স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল অঞ্চল: প্রত্যেক অ্যান্টিবডি দুই অঞ্চলবিশিষ্ট গঠনে নির্মিত। একটি হচ্ছে স্থায়ী অঞ্চল এবং অন্যটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল।
৪. কজা অঞ্চল: অ্যান্টিবডি অণুর বাহু দুটি যে সংযোগ স্থল থেকে দু'ভাগ হয়ে যায় তা কজা অঞ্চল। অংশটি অ্যান্টিবডিকে কিছুটা নমনীয়তা দান করে। বাহু দুটির দু'প্রান্তে অবস্থিত একটি করে মোট দুটি প্যারাটপে দুটি অ্যান্টিজেনকে আটক করা যায়।
উদ্দীপকের শেষ লাইন হলো রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো টিকা প্রদান। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
টিকা গ্রহণ বা ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে দেহে রোগের জীবাণুর নিষ্ক্রিয় অবস্থা ঢুকানো হয় যার ফলে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় যা সক্রিয় জীবাণু প্রবেশ করলে বাধার সৃষ্টি করে। রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা জীবাণুর নির্যাস বা জীবাণু সৃষ্ট পদার্থ (টক্সিন) কিংবা সংশ্লেষিত বিকল্প পদার্থ থেকে উৎপন্ন যে বস্তু অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্নে উদ্দীপনা জোগায় এবং এক বা একাধিক রোগের বিরুদ্ধে দেহকে অনাক্রম্য করে তোলে তাকে ভ্যাক্সিন বলে।
শরীরে মারাত্মক রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া থাকলে ভবিষ্যতে ঐসব রোগ দেহকে অসুস্থ করতে পারে না। ড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে সর্বপ্রথম গুটি বসন্তের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যুগান্তকারী ভ্যাক্সিন বিপ্লব ঘটিয়ে মানুষের রোগমুক্ত দীর্ঘ সুন্দর জীবনের যে প্রত্যাশা জাগিয়েছেন তার ধারাবাহিকতায় আজ দ্বিতীয় জেনারেশন ভ্যাক্সিন হিসেবে হেপাটাইটিস B-ভ্যাক্সিন উৎপন্ন হয়েছে। জীবাণুর অংশবিশেষসহ ভ্যাক্সিন যে দেহে প্রবেশ করে অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট জীবাণুর প্রতি দেহকে অনাক্রম্য করে তোলে। মানবদেহে দু'ভাবে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। যথা- অসুস্থ হলে এবং ভ্যাক্সিন নিলে। ভ্যাক্সিন গ্রহণের ফলে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি দেহে দীর্ঘদিন বা আজীবন উপস্থিত থাকে। অ্যান্টিবডিগুলো জানে কিভাবে জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হতে হয়। অতএব, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পর ভবিষ্যতে যদি আসল জীবাণু দেহে প্রবেশ করে তাহলে অ্যান্টিবডির কৌশলে দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র দেহকে ভোগ করতে না দিয়ে জীবাণু ধ্বংসে সক্রিয় হবে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো টিকা প্রদান।