| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের সুস্থতায় ভেন্টিলেশন…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের সুস্থতায় ভেন্টিলেশন নামক একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কোন কারণে মানুষের মুখমণ্ডলীয় অংশে অবস্থিত গহ্বর আক্রান্ত হলে ভেন্টিলেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়াসহ নানা জটিলতার রোগ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
লোহিত রক্তকণিকা থেকে যতটি রক্তরসে আসে ততটি রক্তরস থেকে লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে। একে ক্লোরাইড শিফট বা হ্যামবার্জার বিক্রিয়া বলা হয়।
ঘ সারফ্যাকটেন্ট এর কাজগুলো নিম্নরূপ :
১. সারফ্যাকটেন্ট অ্যালভিওলাস প্রাচীরের তরল পদার্থের পৃষ্ঠটান কমিয়ে দেয়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস কম পরিশ্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে।
২. সারফ্যাকটেন্ট বাতাস ও অ্যালভিওলাস প্রাচীর সংলগ্ন তরল পদার্থ ও এর দ্রুত বিনিময়ে সাহায্য করে।
৩. এই পদার্থ অ্যালভিওলাসে আগত জীবাণুও (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম লাইনটির প্রক্রিয়াটি দ্বারা মানবদেহের ভেন্টিলেশন কৌশল বা প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস কার্যক্রমকে বুঝানো হয়েছে। মানুষের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস কার্যক্রমটি ফুসফুস দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি বিশেষ কৌশলে সংকুচিত প্রসারিত হয়। এ কৌশলটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা- (ক) প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ এবং (খ) নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ। নিচে প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাসের কৌশল বর্ণনা করা হলো-
প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ: ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচন এর মাধ্যমে প্রশ্বাস ক্রিয়া শুরু হয়। ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচনে পর্যুকাগুলো উপর ও বাইরের দিকে প্রসারিত হয়। এতে বক্ষের আয়তন বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ডায়াফ্রাম ধনুক অবস্থা হতে সংকুচিত হয়ে সমতল আকার ধারণ করে, ফলে এটি সামান্য নিচে নেমে গিয়ে বক্ষগহ্বরের আয়তন লম্বালম্বিভাবে বৃদ্ধি করে। এভাবে অন্তঃপ্লিউরাল ও অন্তঃবক্ষীয় চাপ হ্রাস পায় এবং ফুসফুস প্রসারিত হয়। অন্তঃফুসফুসীয় বায়ুচাপ কমে যায় এবং বাহির থেকে প্রশ্বাস বায়ু নাসিকা ও শ্বাসনালীর মধ্য দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে।
নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ: প্রশ্বাসের পরপরই নিঃশ্বাস ক্রিয়া সংঘটিত হয়। এটি একটি নিষ্ক্রিয় ও প্রশ্বাসের বিপরীত প্রক্রিয়া। এসময় ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশি শিথিল হয়ে আসে এবং বক্ষপ্রাচীর প্রসারিত হয়ে ফুসফুসের উপর অবসন্নভাবে ঢলে পড়ে। এতে অন্তঃবক্ষীয় ও অন্তঃফুসফুসীয় বায়ুচাপ বাহিরের বায়ুচাপ থেকে অনেক বেড়ে যায়। ফলে ফুসফুস থেকে নিঃশ্বাস বায়ু দ্রুতবেগে বের হয়ে যায়। এভাবে নিঃশ্বাস বা শ্বাসত্যাগ সম্পন্ন হয়। স্বাভাবিক' বা বিশ্রাম অবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি মিনিটে 16 - 18 বার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ঘটে।
উদ্দীপকের শেষ লাইনে উল্লেখিত রোগটি হলো সাইনুসাইটিস। নিচে সাইনুসাইটিস রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
কারণ : সাইনাসগুলো বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে ছত্রাকে আক্রান্ত হলে সাইনুসাইটিস হতে পারে। এছাড়া ঠান্ডাজনিত কারণে, অ্যালার্জিজনিত কারণে, কারো হাঁপানি থাকলে, নাকের হাড় বাঁকা হয়ে গেলেও সাইনুসাইটিস হতে পারে।
লক্ষণ:
১. নাক থেকে হলদে বা সবুজ বর্ণের ঘন তরল বের হয়, এতে পুঁজ বা রক্ত থাকতে পারে।
২. মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে মাথা ব্যথার তীব্রতা বাড়ে।
৩. নাক বন্ধ থাকে, নিঃশ্বাসের সাথে বাজে গন্ধ বের হয়।
৪. মাথাব্যথার সাথে দাঁত ব্যথাও হতে পারে।
৫. কাশি হয়, রাতে কাশির তীব্রতা বাড়ে, গলা ভেঙ্গে যায়।
প্রতিকার :
১. গরম পানিতে ভিজিয়ে, চিপড়ে একখণ্ড কাপড় প্রতিদিন মুখমণ্ডলে চেপে ধরা।
২. মিউকাস তরল করতে প্রচুর পানি পান করা।
৩. প্রতিদিন ২-৪ বার নাক দিয়ে বাষ্প টেনে নেওয়া।
৪. দিনে কয়েকবার ন্যাসাল স্যালাইন স্প্রে করা।
৫.. বন্ধ নাক খোলার জন্য ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহারে সতর্ক থাকা।
৬. প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য চিকিৎসায় বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন নাকের ড্রপ ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। ওষুধে নিরাময় না হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন করতে হবে।