| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের তন্ত্রসমূহের মধ্যে…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের তন্ত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম কঙ্কালতন্ত্র যা অস্থি ও তরুণাস্থির সমন্বয়ে গঠিত। এই তন্ত্রটি দৈহিক কাঠামো গঠন, চলনসহ নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
যে অস্থি সন্ধিকে কেন্দ্র করে লিভারের কার্য পরিচালিত হয় তা হলো পিভট।
আকস্মিক কোনো কিছুর চাপে বা আঘাতের কারণে কিংবা রোগের কারণে দেহের কোনো অস্থি বা হাড় ভেঙে গেলে বা অস্থিতে ফাটল ধরলে তাকে বলা হয় অস্থিভঙ্গ বা হাড় ভাঙ্গা। সংক্ষেপে একে FRX বা FX সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রের প্রথম উপাদানটি হলো অস্থি। অস্থির গাঠনিক একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিচে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের গঠন সচিত্র বর্ণনা করা হলো-
নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র।নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুস্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিটি হলো হ্যাভারসিয়ান নালি। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন গড়ে ওঠে। প্রত্যেক ল্যামেলায় ল্যাকুনা নামে কতগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায়। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সূক্ষ্ম কতগুলো নালিকা বেরোয়। এদের ক্যানালিকুলি বলে। এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে। এসব নালিকে ভকম্যানস ক্যানাল বলে।
উদ্দীপকে মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। কঙ্কালতন্ত্রের মাধ্যমে মানবদেহের নানাবিধ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। কঙ্কালতন্ত্রের কাজগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। (১) যান্ত্রিক কাজ, (২) শারীরবৃত্তীয় কাজ। নিচে কঙ্কালতন্ত্রের কাজগুলোর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যান্ত্রিক কাজ:
ক. দৈহিক কাঠামো গঠন: কঙ্কালতন্ত্র মানবদেহের কাঠামো গঠন ও নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে।
খ. সুরক্ষা: মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাদি যেমন- মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, সুষুম্মাকাণ্ড প্রভৃতি বিষেশভাবে নির্মিত কঙ্কালে সুরক্ষিত থাকে।
গ. সংযোগতল সৃষ্টি: দেহের অধিকাংশ পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডন কঙ্কালে সংযুক্ত থেকে বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায়।
ঘ. চলন: অস্থিসন্ধি গঠন এবং পেশির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কঙ্কালতন্ত্র মানুষের চলনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ঙ. ভারবহন : পেশিসমূহ কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে দেহের ভারবহন করে।
২. শারীরবৃত্তীয় কাজ :
ক. শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি: কঙ্কালতন্ত্র কিছু শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। বক্ষপিঞ্জর শ্বাস-প্রশ্বাসে এবং মধ্যকর্ণের কর্ণাস্থি শ্রবণে সহায়তা করে।
খ. খনিজ লবণ সঞ্চয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খনিজ লবণ অস্থিতে সঞ্চয় হয় এবং প্রয়োজনে রক্তে সরবরাহ করে। প্রায় ৯৭% ক্যালসিয়াম অস্থিতে সঞ্চিত থাকে।
গ . রক্তকণিকা উৎপাদন: পরিণত মানবদেহের রক্ত উৎপাদনকারী প্রধান টিস্যু হচ্ছে লাল অস্থিমজ্জা। লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন ছাড়াও লাল অস্থিমজ্জা, অণুচক্রিকা উৎপন্ন করে এবং ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে।
ঘ. হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ: অস্থির কোষ থেকে অস্টিওক্যালসিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়, যা দেহে চিনি ও চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।