| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানবদেহের তন্ত্রসমূহের মধ্যে…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানবদেহের তন্ত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম কঙ্কালতন্ত্র যা অস্থি ও তরুণাস্থির সমন্বয়ে গঠিত। এই তন্ত্রটি দৈহিক কাঠামো গঠন, চলনসহ নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
টেনডন (Tendon) : টেনডন হলো ঘন, মজবুত, শ্বেত বর্ণের নমনীয় ও অস্থিতিস্থাপক তন্তুময় যোজক টিস্যু যেগুলো মাংসপেশির প্রান্তে অবস্থান করে পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ।
অস্থিভঙ্গ হচ্ছে এমন এক চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে রোগী অভিন্ন হাড়ের কোথাও ভেঙ্গে যাওয়াজনিত অসুস্থতায় ভোগে । প্রচন্ড শক্তি, চাপ কিংবা বিভিন্ন অসুখে (অস্টিওপোরোসিস, অস্থিক্যান্সার ইত্যাদি) ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ায় অস্থিভঙ্গ অবস্থার সৃষ্টি হয় ।
হাড় ভেঙ্গেছে কিনা তা কি করে বুঝা যাবে-
১. আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গ নড়াবার চেষ্টা করলে খুব ব্যথা লাগে।
২. রোগী একেবারেই আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গ নাড়াতে পারে না ।
৩. আঘাতপ্রাপ্ত অংশে মৃদু চাপ দিলে বা হাত দিলে খুব ব্যথা অনুভব করে ।
৪. যে স্থানে বেশি ব্যথা হয় সেই অঙ্গের আকারের পরিবর্তন দেখা যায় ।
৫. রোগীর অচল অবস্থা এবং আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ফোলা ফোলা লাগে ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রের প্রথম উপাদানটি হলো অস্থি, এর গাঠনিক একক হ্যভ্যারসিয়ান তন্ত্র।
নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতকগুলো (৫-১৫টি) সাজানো । স্তরগুলোকে ল্যামেলি (lamellae) বলে। ল্যামেলি একটি সুস্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাক বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিটি হচ্ছে হ্যাভারসিয়ান নালি (haversian canal)। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি ও বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (haversian system) বা অস্টিওন (osteon) গড়ে উঠে। প্রত্যেক ল্যামেলায় (একবচন) ল্যাকুনা (lacuna) নামে কতকগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায় । অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে । প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সূক্ষ্ম কতকগুলো নালিকা বেরোয়। এদের ক্যানালিকুলি (canaliculi) বলে । এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে । এসব নালিকে বলে ভকম্যানস ক্যানাল (Volkmann's canal) । হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রসমূহের অন্তর্বর্তীস্থানে কঠিন মাতৃকা ও অস্থিকোষ উপস্থিত থেকে অস্থি সুদৃঢ় করে । অস্থির কেন্দ্রস্থলে যে গহ্বর থাকে তার নাম মজ্জা গহ্বর।
উদ্দীপকে কঙ্কালতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এই তন্ত্রটি দৈহিক কাঠামো গঠন, চলনসহ নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে। নিচে এর কাজগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হল:
কঙ্কালতন্ত্রের কাজ :
ক. যান্ত্রিক কাজ (Mechanical functions)
১. দৈহিক কাঠামো গঠন : কঙ্কালতন্ত্র মানবদেহের কাঠামো গঠন ও নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে ।
২. সুরক্ষা : মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাদি যেমন মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, সুষুমাকাণ্ড প্রভৃতি বিশেষভাবে কঙ্কালে সুরক্ষিত থাকে ।
৩. সংযোগতল সৃষ্টি : দেহের অধিকাংশ পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডন কঙ্কালে সংযুক্ত থেকে বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায়
৪. চলন : অস্থিসন্ধি গঠন এবং পেশির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কঙ্কালতন্ত্র মানুষের চলনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
৫. ভারবহন : পেশিসমূহ কঙ্কালের সাথে আটকে থেকে দেহের ভারবহন করে ।
খ. শারীরবৃত্তীয় কাজ (Physiological functions)
৬. রক্ত কণিকা উৎপাদন : পরিণত মানবদেহের রক্ত উৎপাদনকারী প্রধান টিস্যু হচ্ছে লাল অস্থিমজ্জা । স্টার্নাম, পাঁজর, কশেরুকা, করোটি এবং ফিমার ও হিউমেরাসের মস্তকে অবস্থিত অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত কণিকা উৎপন্ন হয় । অস্থিমজ্জা থেকে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ লোহিত কণিকা সৃষ্টি হয়। অবিরামভাবে লোহিত কণিকা উৎপাদন ছাড়াও লাল অস্থিমজ্জা অণুচক্রিকা উৎপন্ন করে এবং ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে।
৭. নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও শ্রবণ : বক্ষপিঞ্জর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে এবং মধ্যকর্ণের কর্ণাস্থি শ্রবণে সহায়তা করে।
৮.রোগ প্রতিরোধ : অস্থির (রেটিক্যুলো এন্ডোথেলিয়ালতন্ত্র দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অংশ নেয়।
৯. খনিজ লবণ সঞ্চয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজনে রক্তে সরবরাহ করে।
১০. চাপ ও আয়নিক সমতা রক্ষা : দেহের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণে ও আয়নিক সমতা রক্ষায় অস্থিসমূহ কাজ করে।
১১. হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ : অস্থির কোষ থেকে অস্টিওক্যালসিন) (osteocalcin) নামক হরমোন ক্ষরিত হয় যা দেহে
রক্তের চিনি ও চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
১২. রাসায়নিক শক্তি : মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু লোহিত অস্থিমজ্জা পরিবর্তিত হয়ে পীত অস্থিমজ্জা (yellow bone marrow) গঠন করে । পীত অস্থিমজ্জায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাডিপোজ কোষ (adepose cell) থাকে যেগুলো দেহের সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তির আধার হিসেবে ভূমিকা রাখে ।