| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষ মানুষের জন্যজীবন…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৪ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি
মানুষ পেতে পারে না
ও বন্ধু-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
যে কবিকে বিষে ভরা বান দেয় কবি তাকে বুক ভরা গান দেন।
"মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে, আমি তার বুক ভরি" বলতে মানুষের প্রতি কবির গভীর মমতাকে নির্দেশ করেছেন।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি একজন নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষ। তিনি মহানুভব ও ক্ষমাশীল। কেউ তাকে আঘাত করলে তিনি প্রতিঘাত করেন না। তিনি প্রতিশোধ, হিংসা, প্রতিহিংসা থেকে সব সময় দূরে থাকতে চেয়েছেন। যারা কবির ক্ষতি করেছে, কবিকে যন্ত্রণা দিয়েছে, কবির হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছে কবি তার বুক ভরিয়ে দেন ভালোবাসায়। এভাবে কবির সর্বংসহা ও ভালোবাসপূর্ণ মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য হলো মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা।
এই ব্রহ্মাণ্ডে কেউ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। মানুষের জীবনের প্রকৃত অর্থ নিহিত থাকে, অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত সর্বদা অপরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার কথাই বলেছেন। কবিতায় দেখা যায় কবি নিজের স্বার্থ ভুলে অপরের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। কবি মনে করেন অপরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করাই মানবজীবনের উদ্দেশ্য। তাই তো তিনি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাণী প্রচার করেছেন। উদ্দীপকের অংশটুকুতেও এমনই ভাব প্রকাশ পেয়েছে। সেখানেও মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহান বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যা মূলত 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য পাওয়া যায় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার দিক থেকে।
'মানুষ মানুষের জন্য'- উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। মানুষকে একদিন এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই মানুষের উচিত সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে পরের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করা। কেননা মানবকল্যাণের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত অর্থ লুকিয়ে রয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার বাণীই প্রচার করেছেন। তিনি সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সকলের তরে নিজেকে উৎসর্গ করার কথা বলেছেন। পুরো কবিতায় কবির সর্বংসহা মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আসলে মানুষ হিসেবে আমাদেরও উচিত এমন প্রকৃতির হওয়া। কেননা এই পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিয়ে বিব্রত থাকতে আসেনি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চরণগুলোতেও এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে। সেখানেও বলা হয়েছে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা। নশ্বর এই পৃথিবী ছেড়ে সবাই একদিন চলে যাবে। কিন্তু মানুষ হিসেবে যারা পরার্থে জীবন উৎসর্গ করবেন তারা হবেন অমর। অর্থাৎ 'প্রতিদান' কবিতা ও উদ্দীপকের ভাব দুটিরই মূল সুর মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই বিবেচনায় বলা যায়, 'মানুষ মানুষের জন্য' - উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।