| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের ১ নম্বর…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানুষের ১ নম্বর অটোসোমে রক্ত গ্রুপ নির্ধারণকারী একটি ফ্যাক্টর পাওয়া যায়। এই ফ্যাক্টরটি ৬টি সাধারণ অ্যান্টিজেন নিয়ে গঠিত। এগুলো তিন জোড়ায় বিভক্ত। এই অ্যান্টিজেনিক অ্যালিলগুলোর মধ্যে কিছু থাকে মেন্ডেলীয় প্রকট এবং বাকিগুলো মেন্ডেলীয় প্রচ্ছন্ন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
পেশিতন্তুর ভেতরের আবরণটি হলো এন্ডোমাইসিয়াম।
প্রতিটি পেশিতন্তুর সারকোপ্লাজমে লম্বালম্বিভাবে বিন্যস্ত অসংখ্য অতি সূক্ষ্ম তন্তু থাকে যাকে মায়োফাইব্রিল বলে। এই মায়োফাইব্রিলগুলো মূলত অ্যাকটিন এবং মায়োসিন নামক দুই ধরনের প্রোটিন নির্মিত ফিলামেন্ট দিয়ে গঠিত হয়। এগুলো পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকায় পেশিতন্তুতে আড়াআড়ি ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের রক্তের ফ্যাক্টরটি হলো Rh ফ্যাক্টর। মানুষের রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিজেন উপস্থিত থাকে যা রেসাস বানরের রক্তে পাওয়া যায়। একে Rh ফ্যাক্টর বা রেসাস ফ্যাক্টর বলা হয়।
মানুষের শরীরে উপস্থিতি-অনুপস্থিতির ভিত্তিতে এই ফ্যাক্টরের বহিঃপ্রকাশ প্রধানত দুইভাবে ঘটে। রক্তে এটি উপস্থিত থাকলে তাকে পজিটিভ এবং না থাকলে তাকে নেগেটিভ বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের রক্তে Rh ফ্যাক্টর মূলত ছয়টি সাধারণ অ্যান্টিজেনের একটি সমষ্টি যা বড় হাতের C, D, E এবং ছোট হাতের c, d, e দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এখানে বড় হাতের অক্ষরগুলো মেন্ডেলীয় প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং ছোট হাতের অক্ষরগুলো প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। লোহিত কণিকায় তিনটি অ্যান্টিজেন সবসময় একসাথে থাকে। তবে প্রতি জোড়ার দুটি উপাদান, যেমন বড় D এবং ছোট d এ কখনো একসাথে থাকতে পারে না।
Rh ফ্যাক্টরের এই বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকট C, D বা E অ্যান্টিজেন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে, ফলে কারো রক্তে শুধুমাত্র একটি প্রকট জিন থাকলেও তার রক্ত পজিটিভ হিসেবে প্রকাশ পায়। অন্যদিকে কোনো প্রকট জিন না থাকলে রক্ত নেগেটিভ হয়। সেক্ষেত্রে CDE, De, CDe, CDE, Cde, cdE, CdE এগুলো Rh পজিটিভ হয় এবং শুধু cde হয় Rh নেগেটিভ। এই বংশগতি জিনগুলো জোটবদ্ধভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় এবং Rh ফ্যাক্টরের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
উদ্দীপকে উল্লিখির ফ্যাক্টর তথা Rh ফ্যাক্টরের ভিন্নতার কারণে মানুষের রক্ত সঞ্চালন এবং গর্ভধারণজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিচে এই জটিলতার ঝুঁকি এবং প্রতিকার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো-
জটিলতা: রক্তপাত বা অস্ত্রোপচারের সময় দাতা ও গ্রহীতার Rh ফ্যাক্টর যাচাই না করে রক্ত সঞ্চালন করলে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। যদি Rh পজিটিভ রক্ত কোনো Rh নেগেটিভ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়, তবে রক্তকণিকাগুলো জমাট বেঁধে ভেঙে যায়। এর ফলে প্রস্রাবের সাথে হিমোগ্লোবিন বের হয়ে আসতে পারে। এই হিমোগ্লোবিন বৃক্কে জমা হয়ে ইউরোমিয়া রোগ সৃষ্টি করে, যা বৃক্কের কাজ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া রোগীর জন্ডিস হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই জরুরি অবস্থায় দাতার গ্রুপ জানা না থাকলে Rh নেগেটিভ রক্ত সঞ্চালন করা সবচেয়ে নিরাপদ।
আবার, একজন Rh নেগেটিভ মহিলার সাথে Rh পজিটিভ পুরুষের বিয়ে হলে তাদের সন্তান Rh পজিটিভ হয়। ভূণের Rh পজিটিভ লোহিত কণিকা অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্তে প্রবেশ করলে সেখানে Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। প্রথম সন্তানের সময় এই অ্যান্টিবডি খুব ধীরে তৈরি হয় বলে শিশুটি সুস্থভাবে জন্ম নিতে পারে। তবে পরবর্তী গর্ভধারণের সময় মায়ের রক্তে আগে থেকে তৈরি থাকা অ্যান্টিবডি অমরার মাধ্যমে ভূণের রক্তে প্রবেশ করে লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে ভ্রুণ নষ্ট হয়ে গর্ভপাত ঘটতে পারে। শিশু জীবিত জন্মালেও তার শরীরে প্রচণ্ড রক্তস্বল্পতা ও জন্ডিস দেখা দেয়। লোহিত রক্তকণিকার এই ভাঙ্গনজনিত রোগকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলা হয়।
প্রতিকার: Rh ফ্যাক্টরজনিত জটিলতা এড়াতে রক্ত সঞ্চালনের আগে দাতা ও গ্রহীতার গ্রুপ এবং ক্রস-ম্যাচিং পরীক্ষা করা জরুরি। নেগেটিভরক্তে ভুলবশত পজিটিভ রক্ত দিলে শরীরে ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো অমিল দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-D বা প্রতিষেধক গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় জটিলতা রোধে প্রসবের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের শরীরে বিশেষ অ্যান্টি-D ইনজেকশন দিয়ে পরবর্তী সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।