| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের বাহ্যিক আচরণ…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক যে নিয়মকানুন আরোপিত হয় তা সমাজ দ্বারাও স্বীকৃত হতে হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
'Liberty' ইংরেজি শব্দ।
অন্যের কোন ক্ষতি না করে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার অধিকারই হলো স্বাধীনতা। ইংরেজি (Liberty) শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে স্বাধীনতা।স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকার হস্তক্ষেপ না করে নিজের অধিকার পরিপূর্ণভাবে ভোগ করা। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন এক পরিবেশ যেখানে ব্যক্তি কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বিকাশের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকের বিষয়টি তথা আইনের বেশকিছু উৎস রয়েছে।
আইন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মকানুন যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্দীপকে এই ধারণার প্রতিফলনের মাধ্যমে আইনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আইনের উৎস বহুবিধ। তন্মধ্যে সর্বপ্রাচীন হলো প্রথা। প্রথার মাধ্যমে বহু আইনের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি ও অভ্যাস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। ধর্মকে আইনের প্রাচীন, উৎস বলা হয়। মধ্যযুগে ধর্মকে কেন্দ্র করে আইন প্রণীত হতো। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন আইনে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া বিচারকের রায় আইনের অন্যতম উৎস। বিচারকগণ যখন কোনো মামলার বিচার করেন তখন সে মামলার জন্য প্রচলিত আইন যদি অস্পষ্ট থাকে; তাহলে বিচারকগণ নিজস্ব বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে রায় দেন। পরবর্তীতে ওইরূপ মামলার রায় একইরূপে দেওয়া হয় এবং তা আইনে পরিণত হয়। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও আইনবিদের গ্রন্থ থেকেও আইন উৎপত্তি লাভ করে। বর্তমান যুগে আইনের সর্বপ্রধান উৎস আইনসভা। আইনসভা যুগের চাহিদা অনুযায়ী মানুষের জন্য নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং পুরাতন আইন সংশোধন কিংবা বাতিল করে। এছাড়াও জনমত, প্রশাসনিক ঘোষণা ও বৈদেশিক চুক্তিও আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত। এভাবেই বিভিন্ন উৎস হতে আইন সৃষ্টি হয়ে থাকে।
উক্ত বিষয়টি তথা আইনের সাথে নৈতিকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান। নৈতিকতা হলো এক ধরনের মানুষিক অবস্থা যা কাউকে অপরের মঙ্গল কামনা করতে এবং সমাজের প্রেক্ষিতে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেয়। এটিকে প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন বা অন্য কোনো বিষয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অন্যদিকে আইন হলো বিধিবদ্ধ নিয়মকানুনের সমষ্টি বা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বলবৎ করা হয়।
আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষের আচরণ। আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগৎকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আইন ও নৈতিকতা উভয়ের লক্ষ্য হচ্ছে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
আইন হচ্ছে সামাজিক ন্যায়বোধের প্রতিফলন। মানুষের নৈতিকতাবোধ রাষ্ট্রীয় আইনকে প্রভাবিত ও সাহায্য করে। সমাজজীবনে উৎকর্ষতা সাধনে আইন ও নৈতিকতা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা যেমন অনেক সময় আইনে পরিণত হয়, তেমনি আইনও অনেক সময় কুনীতিকে দূর করে সুনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে। আইনের কার্যকারিতা যেমন মানুষের নৈতিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি সময় ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে সামঞ্জস্যহীন নৈতিক বিশ্বাসও আইনের দ্বারা পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়। রাষ্ট্র সাধারণত 'নৈতিক আদর্শকে অনুসরণ করে। আইনের মতোই নৈতিকতাও সমাজ এবং রাষ্ট্রনির্ভর। সমাজব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে নৈতিক ধারণা ও আদর্শেরও পরিবর্তন ঘটে। সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি হলো সামাজিক স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া। এক্ষেত্রে আইন ও নৈতিকতার সমন্বয় সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
অতএব উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আইন ও নৈতিকতা উভয়ের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ও মধুর। উভয়ই একে অপরের পরিপূরক। যখন কোনো আইন-নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তখনই তা' জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়। নৈতিকতাবিরোধী আইন কোনো দিনই জনসমর্থন লাভ করেনি এবং টিকেও থাকেনি।