| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের বক্ষ গহ্বরের…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানুষের বক্ষ গহ্বরের উভয়পাশে
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে শ্বসন তল কমে যায়। এ অবস্থাকে এমফাইসেমা বলে।
প্রাইমারি ব্রঙ্কাস থেকে শুরু করে অ্যালভিওলাস পর্যন্ত ফুসফুসের গঠনচিত্র দেখতে অনেকটা বৃক্ষের মতো বলে একে শ্বসনবৃক্ষ বা ব্রাঙ্কিয়াল বৃক্ষ বলে। শ্বসন ব্রঙ্কিওল থেকে অ্যালভিওলাই পর্যন্ত অংশকে একত্রে শ্বসন একক বলে। শুধু এই শ্বসন এককেই অক্সিজেন ও ও বিনিময় ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো মানুষের শ্বসনতন্ত্র ফুসফুসের ক্ষুদ্রতম একক অ্যালভিওলাস। নিচে অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
অ্যালভিওলাস অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির বুদবুদ সদৃশ এক প্রকার বায়ু থলি। এরা গ্যাস আদান-প্রদানকারী তল গঠন করে। মানুষের দুটি ফুসফুসে ৭০ কোটির বেশি অ্যালভিওলাস থাকে এবং এরা প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তন তলের সৃষ্টি করে। অ্যালভিওলাসের ব্যাস ০.২ মি.মি. এবং এর প্রাচীর মাত্র ০.০০০১ মি.মি. বা ০.১ মাইক্রোমিটার পুরু। অ্যালভিওলাসের বাইরের দিকে প্রচুর পরিমাণে কৈশিক জালক নিবিড়ভাবে অবস্থান করে।
এরা পালমোনারি ধমনি থেকে উৎপন্ন হয় এবং পুনরায় মিলে পালমোনারি শিরা গঠন করে। প্রত্যেকটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত। যার জন্য অতি সহজেই গ্যাসের ব্যাপন ঘটাতে পারে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক সূত্রক থাকে। স্থিতিস্থাপক সূত্রের জন্য নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাস সহজেই প্রসারিত হতে পারে এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। অ্যালভিওলাস প্রাচীরে কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে। এ পদার্থকে সারফেকট্যান্ট বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুসের অ্যালভিওলাস এবং গ্যাস দুটি হলো ও । রক্তের রঞ্জক হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে ও এর পরিবহন প্রক্রিয়া নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবহন : ফুসফুস হতে রক্তে দু'ভাবে পরিবাহিত হয়, যথা-ভৌত দ্রবণরূপে ও রাসায়নিক যৌগরূপে।
i. ভৌত দ্রবণরূপে : প্রতি ১০০ মি.লি. রক্তে ০.৩ মি.লি. ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়।
ii. রাসায়নিক যৌগরূপে: রক্তে প্রবেশের পর লোহিত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সি-হিমোগ্লোবিন যৌগ হিসেবে অক্সিজেন দেহকোষে পরিবাহিত হয়।
হিমোগ্লোবিন]
পরিবহন : দেহকোষে উৎপন্ন তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়।
i. ভৌত দ্রবণরূপে: কিছু পরিমাণ (৫%) -এর সাথে রক্তের প্লাজমার পানির বিক্রিয়ায় কার্বনিক এসিড উৎপন্ন হয়ে রক্তে পরিবাহিত হয়।
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে : লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের অ্যামিনো গ্রুপের সাথে যুক্ত করে কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে, কার্বামিনো প্রোটিন গঠন করে। মোট -এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয়।
iii. বাইকার্বনেট যৌগরূপে: -এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বনেটরূপে পরিবাহিত হয়। এটি রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।