| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের বক্ষগহ্বরে দু’পাশে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানুষের বক্ষগহ্বরে দু’পাশে অসংখ্য বায়ুপ্রকোষ্ঠযুক্ত অঙ্গ আছে, যা O2 ও CO2 গ্যাস বিনিময় ঘটায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ফুসফুসের বাইরের দ্বি-স্তর বিশিষ্ট আবরণকে প্লুরা বলে।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের সংক্রমনে বা এলার্জিজনিত কারণে, সাইমাসের মিউকাস পর্দায় যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকেই সাইনোসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিস এর কারনে মাথা ব্যাথা, মুখমণ্ডল ব্যাথা, নাক দিয়ে হলুদ বা সবুজাভ তরল ঝরে পড়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়।
উদ্দীপকের অঙ্গটির ক্ষুদ্রতম একক হলো অ্যালভিওলাস। নিচে অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো:ফুসফুসের কার্যকারী একক হলো অ্যালভিওলাস। এগুলো আঙ্গুরের মতো থোকার মতো গুচ্ছাবিশিষ্ট,অতি ক্ষুদ্রাকায়,বুদবুদ সদৃশ বায়ুথলি এবং গ্যাস বিনিময়ের তল গঠন করে। ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের সংখ্যা বয়সের সাথে সম্পর্কিত। অ্যালভিওলাসের বাইরের দিকে প্রচুর কৈশিকজালিকা নিবিড়ভাবে অবস্থান করে। পালমোনারি ধমনি থেকে এগুলোর উৎপত্তি হয় এবং পুনোরায় মিশে গিয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা,চাপা স্কোয়াসমাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত হওয়ায় সহজেই ব্যাপন ঘটাতে পারে। অ্যালভিওলাস প্রাচীর ফ্যাগোসাইটোসিস অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে। ম্যাক্রোফেজ অনুজীব এবং অন্যান্য বহিরাগত কণা ধ্বংস করে। তাছাড়া প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে। এ স্থিতিস্থাপক সূএের কারণে প্রশ্বাস-নিঃশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাস প্রসারিত হতে পারে,আবার পূর্বাবস্থায় ফিরেও আসতে পারে।
অ্যালভিওলাস প্রাচীরে সেপ্টাল কোষ নামক কিছু বিশেষ কোষ থাকে যা প্রাচীরের ভেতরের দিকে সারফ্যাকটেন্ট নামক ডিটারজেন্ট এর অনুরূপ ফসফোলিপিড রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। সারফ্যাকটেন্ট সারফেস টেনশন হ্রাস করে অ্যালভিওলাসকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। সারফ্যাকটেন্ট বিহীন অ্যালভিওলাস তথা ফুসফুসের যথাযথ কাজ করতে পারে না।
উদ্দীপকের উল্লেখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস এবং শেষোক্ত গ্যাসটি হলো CO2। নিচে CO2 এর পরিবহন ব্যাখ্যা করা হলো:
কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন:
খাদ্য জারণ বিক্রিয়া কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল ও লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাই কার্বোনেট (KHCO3) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।