| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ হতে জোড়ায় জোড়ায় স্নায়ু উৎপত্তি লাভ করে করোটিকা ভেদ করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তার লাভ করেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিনধর্মী পদার্থই হলো হরমোন।
কোনো দৃশ্যযোগ্য বস্তুকে একই সাথে দুচোখের সাহায্যে এককভাবে দেখার প্রক্রিয়াকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি রেটিনায় পতিত হলে যে স্নায়ু উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মস্তিষ্কের দৃষ্টিকেন্দ্রে একটি মাত্র প্রতিবিম্বে একত্রীভূত হয়। ফলে মানুষ দুচোখে একটি বস্তুকে এককভাবে দেখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্নায়ুগুলো হলো করোটিক স্নায়ু। নিম্নে করোটিক স্নায়ুগুলোর উৎপত্তি ও প্রকৃতি দেওয়া হলো-
মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদী অঙ্গগুলো হলো চোখ, কান ও নাক। এগুলো মানবদেহের সংবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব অঙ্গের কার্যক্রম কতিপয় করোটিক স্নায়ু কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন- চোখ, কান ও নাক এর কার্যক্রম যথাক্রমে অপটিক, অডিটরি ও অলফ্যাক্টরি স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কোন কারণে এসব স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উদাহরণস্বরূপ- চোখের পাতা যখন খোলা থাকে তখন বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি ক্রমান্বয়ে কর্ণিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, পিউপিল, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমার এর মধ্য দিয়ে এসে রেটিনায় পড়ে এবং রেটিনার উপর বস্তুটির সংক্ষিপ্ত ও উল্টা প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। রেটিনার আলোক সংবেদী রড ও কোণকোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে এ আলোক অনুভূতি মস্তিষ্কের দৃষ্টিকেন্দ্রে পৌছে যায়। মস্তিষ্কে সবশেষে বস্তুটির সোজা প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় এবং মানুষ বস্তুটিকে সোজা দেখতে পায়। কোন কারণে এই অপটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই আলোক অনুভূতি রেটিনা থেকে মস্তিষ্কে বাহিত হবে না। ফলে মানুষ দেখতেও পারবে না। তাই অপটিক স্নায়ু ছাড়া চোখের উপযুক্ত প্রতিবেদন অসম্ভব। তেমনিভাবে কান দ্বারা সংগ্রহীত শব্দ বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ হয়ে অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। অন্তঃকর্ণের অর্গান অব কর্টি-র সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এই আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। কোনভাবে অডিটরি স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষ শুনতে পাবে না এবং কান দ্বারা উপযুক্ত প্রতিবেদন তৈরি অসম্ভব হয়ে পড়বে। তেমনি অলফ্যাক্টরি স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাক দ্বারা প্রতিবেদন সঠিকভাবে সংগৃহীত হবে না।
উপরোল্লিখিত পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট এই প্রতীয়মান হয় যে, সংবেদী অঙ্গগুলোর সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুগুলো কার্যকারিতা হারালে সঠিকভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ ও উপযুক্ত প্রতিবেদন তৈরি অসম্ভব হয়ে পরে।